Top banner
Language : Bengali | English
Quick Links
 




স্থান : দরবার হল, বঙ্গভবন
তারিখ : শুক্রবার, ১৩ আশ্বিন ১৪১৯ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১২


বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহীম

কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু শিশুকিশোর মেলার প্রিয় বন্ধুরা,
আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এবং
উপস্থিত সুধীমণ্ডলী

আস্সালামু আলাইকুম।
সোনামনি বন্ধুরা, শরতের এই স্নিগ্ধ বিকেলে আমি তোমাদের সকলকে বঙ্গভবনে স্বাগত জানাই। আজকের দিনটি বাঙালির জীবনে স্মরণীয়। কারণ আজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার শুভ জন্মদিন। আমি আমার নিজের এবং দেশবাসীর পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে তাঁকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও উষ্ণ শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

তোমরা জেনে থাকবে ১৯৪৭ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ হাসিনার জন্ম। তাঁর পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। মাতা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেছা। শেখ হাসিনা পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবার বড়। বড় সন্তান হিসেবে তিনি সবার আদরে বড় হয়েছেন। পিতা রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায় ছোট বেলা থেকেই তিনি রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠেন। শৈশব থেকেই শেখ হাসিনা তাঁর পিতাকে রাজপথে মিছিলের পুরোভাগে দেখেছেন, দেখেছেন বড় বড় সভা-সমিতিতে বক্তৃতা করতে। দেখেছেন খবরের কাগজের ছবিতে। রাজনৈতিক কারণে বারবার জেলে যেতেও দেখেছেন। বাড়িতে নেতা-কর্মীদের ভীড় দেখেছেন, দেখেছেন গরীব দুঃখী মানুষের সহযোগিতা করতে; তাদের ভালবাসতে। এসব কারণে ছোটবেলা থেকেই আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজনীতি সচেতন হয়েছেন, দুঃখী মানুষকে ভালবাসতে শিখেছেন। ছাত্রী অবস্থায় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এসময়ে তিনি ছাত্রীদের সংগঠিত করে সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় অংশ গ্রহণ করেছেন।
শিশুকিশোর বন্ধুরা,
তোমরা হয়তো ভেবেছো সোনার চামচ মুখে নিয়ে শেখ হাসিনার জন্ম। কিন্তু তা নয়। তিনি সাধারণ বাঙালি পরিবারে অন্যান্য শিশুর মতো জন্মেছেন। অজ পাড়া গাঁয়ের আলো হাওয়ায় অন্য দশজন সাধারণ পল্লী বালিকার মতো বড় হয়েছেন। সকলের সাথে ভাল ব্যবহার করা, গুরুজনদের কথা মান্য করা, দুঃখী মানুষের সেবা করা ছিল তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। মনে কোন হিংসা, বিদ্বেষ, অহমিকা, লোভ ছিল না তাঁর। আজো আমরা তাঁর চলনে-বলনে, আচার-ব্যবহারে তা দেখতে পাই। প্রধানমন্ত্রী হয়েও তিনি সাধারণ জীবন যাপন করেন, দুঃখী মানুষকে কাছে টেনে নেন। মানুষের প্রতি তাঁর অপরিসীম দরদ ও ভালবাসা আমাদের সবাইকে মুগ্ধ করে।
প্রিয় বন্ধুরা,
    তোমরা নিশ্চয়ই জানো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পিতা ছিলেন আমাদের স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের রূপকার ও প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বাঙালি জাতিকে সংগঠিত করেন। পাকিস্তানী শাসকদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই করে ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এরপর শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ ন’মাস সশস্ত্র যুদ্ধ করে আমরা বিজয় অর্জন করি। তাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের জাতির পিতা। জাতির পিতা এ দেশকে ‘সোনার বাংলা’য় পরিণত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি তার সেই স্বপ্ন পূরণ করতে দেয়নি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কাল রাতে ধানমন্ডির বাসভবনে জাতির পিতা, তাঁর স্ত্রী, পুত্র, পুত্রবধুসহ আপনজনদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনা কেবল বাঙালি জাতিকে নয়, গোটা বিশ্ববাসীকে ব্যথিত করে। সবাই স্তম্ভিত হয়ে পড়ে। আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা সেই দিন পশ্চিম জার্মানীর রাজধানী বার্লিনে থাকায় আল্লাহর রহমতে প্রাণে বেঁচে যান। প্রাণ রক্ষা পায় শেখ হাসিনার শিশু পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের। এ মর্মান্তিক ঘটনায় শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন পিতামাতা ও স্বজন হারা হন। তবুও তিনি থেমে থাকেন নি। প্রায় সাত বছর বহু কষ্টে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে অনেক ঝুঁকি নিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরেন। হাল ধরেন স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের। নির্বাচিত হন সভাপতি। এরপর স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলেন। ফিরিয়ে আনেন গণতন্ত্র। তাই তিনি গণতন্ত্রের মানস কন্যা। ১৯৯৬ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন ও অগ্রগতি সাধিত হয়। পার্বত্য এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা, গঙ্গা পানি চুক্তি, প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে অমিমাংসিত বিষয়গুলো শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়। নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে তিনি জনগণের বিপুল সমর্থন নিয়ে ২০০৯ সালে পুনরায় দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কর্মসূচি নেন। এর ফলে অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ইউনিয়ন পর্যায়ে  তথ্য-প্রযুক্তির বিস্তার ঘটে। জনগণ আজ এর সুফল পেতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি বাংলাদেশকে শান্তির মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তন জনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় বিশ্বব্যাপী জনমত সৃষ্টি করেছেন। সর্বশেষ সমুদ্র বিজয় তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান। এজন্য দেশবাসীর পক্ষে আমি তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
প্রিয় সোনামনি বন্ধুরা,
    শেখ হাসিনা আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশের প্রাচীন রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি। কর্মের গুণে তিনি দেশের গণমানুষের প্রিয় নেত্রী হয়েছেন। দেশ ও বিদেশ থেকে সম্মান ও গৌরব বয়ে আনছেন। এখানে বলতে চাই এজন্য তাঁকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। জনগণকে মন প্রাণ দিয়ে ভালবাসতে হয়েছে। তাদের কল্যাণে কাজ করতে হয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা তাঁর বাবার অসমাপ্ত স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ বাস্তবায়নে ‘রূপকল্প ২০২১’ ঘোষণা করেছেন। এ রূপকল্প হলো  জ্ঞানভিত্তিক সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা। তোমরা শিশুরা জ্ঞানবিজ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে এ রূপকল্প বাস্তবায়নে অংশ নেবে। তোমরা বঙ্গবন্ধু ও তাঁর কন্যা শেখ হাসিনার জীবন ও কর্ম থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের গড়ে তুলবে। আমার বিশ্বাস তোমাদের মধ্যে কেউ একদিন শেখ হাসিনার মতো প্রধানমন্ত্রী হবে, হবে রাষ্ট্রনায়ক। আমি তোমাদের জন্য দোয়া করি। তোমরা বড় হও, অনেক বড়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে তাঁকে আবারও ধন্যবাদ জানাই। অভিনন্দন জানাই, শুভেচ্ছা জানাই। দেশ পরিচালনার যে গুরু দায়িত্ব তিনি পালন করছেন তা সর্বাঙ্গীণ সফল হোক, স্বার্থক হোক। তাঁর গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হোক-বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াক। মহান আল্লাহর নিকট এই আমার প্রার্থনা।
পরিশেষে আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। কল্যাণ কামনা করছি তাঁর পরিবারবর্গের জন্য। তিনি আরও দীর্ঘদিন বাঙালি জাতির নেতৃত্ব দিন, দেশ ও জনগণের কল্যাণে অবদান রাখুন। সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাঁর প্রতিটি কাজে সফলতা দান করুন-আমিন।

খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

 

Home | Contact us | Sitemap
© Copyright 2009, Bangabhaban - Bangladesh, all rights reserved.
Financed by Support to ICT Task Force (SICT) , Planing Division. Developed by : Ethics Advanced Technology Ltd. (EATL)