Top banner
Language : Bengali | English
Quick Links
 




স্থান : বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র
তারিখ : বৃহস্পতিবার, ০৫ আশ্বিন ১৪১৯ ২০ সেপ্টেম্বর ২০১২


বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহীম

সম্মানিত ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর এম ওমর রহমান,
মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী জনাব নূরুল ইসলাম নাহিদ, এমপি;
সম্মানিত সমাবর্তন বক্তা জনাব আসাদুজ্জামান নূর,এমপি;
বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টিবৃন্দ
প্রিয় গ্রাজুয়েটগণ
আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এবং
উপস্থিত সুধীমণ্ডলী,

আস্সালামু আলাইকুম।
ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ-এর চতুর্দশ সমাবর্তনে উপস্থিত হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দ অনুভব করছি। সমাবর্তন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গৌরবজনক ও আনন্দমুখর অনুষ্ঠান। এর মাধ্যমে নবীন গ্রাজুয়েটদের অর্জিত ডিগ্রিকে আনুষ্ঠানিভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ও নিজ কার্যক্রম মূল্যায়নের সুযোগ পায়। সমাবর্তন এমন একটি অনুষ্ঠান যা ডিগ্রি গ্রহণকারী গ্রাজুয়েটদের আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকে এবং তাদেরকে সামনে এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা যোগায়।
আমি ডিগ্রিপ্রাপ্ত নবীন গ্রাজুয়েটদের প্রাণঢালা অভিনন্দন জানাই। ধন্যবাদ জানাই তাদের গর্বিত অভিভাবক, শ্রদ্ধেয় শিক্ষকমণ্ডলী এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারকে। নবীন গ্রাজুয়েটগণ দেশ ও মানবতার কল্যাণে তাদের অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবে, এটাই সকলের প্রত্যাশা।

সম্মানিত সুধীমণ্ডলী,
    আপনারা জানেন, প্রাচীন সভ্যতার পাদপীঠ আমাদের এই ভূখণ্ড। যুগে যুগে নানা জাতির আগমণ ঘটেছে এ অঞ্চলে। তাদের ভাষা, সংস্কৃতি, জীবনাচারের সংমিশ্রণে আমাদের সংস্কৃতি হয়েছে সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময়। তবে একথা ঠিক যে, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের আগ পর্যন্ত আমরা স্বাধীন ছিলাম না। আর্য, গুপ্ত, পাল, সেন, মোগল, পাঠান, ইংরেজসহ নানা জাতি যারা এ অঞ্চলে শাসন করেছেন তারা সকলেই ছিলেন ভ্নিদেশি।   পাকিস্তান আমলেও আমরা ছিলাম পরাধীন। আমাদের পরম সৌভাগ্য বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম হয়েছিল পলল বিধৌত এই জনপদে। তাঁরই নেতৃত্বে বাঙালি জাতি অর্জন করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। জাতি হিসেবে তাই আমরা জাতির পিতার নিকট চিরঋণী। আমি আজ সেই মহামানবের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।
সম্মানিত সুধী,
    বলতে গেলে আমি ত্রিকালের সাক্ষী। ব্রিটিশ শাসনামলে আমার জন্ম ১৯২৯ সালে। ১৯৪৬ সালে কলেজে পড়াকালীন আমি রেফারেন্ডামে অংশ নেই। পরিচয় ঘটে তৎকালীন তুখোড় ছাত্রনেতা বঙ্গবন্ধুর সাথে। বঙ্গবন্ধুর সাথে পরিচিত হওয়ার পর তাঁরই নেতৃত্বে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিই। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশদের ভারত উপমহাদেশ ছেড়ে যাওয়া দেখেছি। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছি। ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৫৮-এর সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ’৬২ সালে শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ৬৬-এর ৬-দফা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০-এর নির্বাচন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় যোগদান করেছি। এসব আন্দোলনে আমাদের নেতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর অদম্য সাহস, বিচক্ষণতা, অসাধারণ নেতৃত্বের গুণাবলি, বজ্রকণ্ঠ আমাদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করতো। বঙ্গবন্ধুর মতো সাহসী নেতার জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। আমি তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানাবো আপনারা বাঙালির সংগ্রামী ও গৌরবময় ইতিহাস অনুধাবন করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতি গঠনে অবদান রাখবেন।

    ইতোমধ্যে আমাদের স্বাধীনতার একচল্লিশ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তির যে লক্ষ্য ছিল তা আজো আমরা পুরোপুরি অর্জন করতে পারি নি। এর বহুবিধ কারণও রয়েছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার মধ্যদিয়ে আমাদের উন্নয়নের পথ, গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ হয়। বন্ধ হয় মানুষের বাক্, মতামত ও চিন্তার স্বাধীনতা। নানা চড়াই- উৎরাই পেরিয়ে দেশে আজ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত। জাতির পিতার কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে সামনে রেখে একটি তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর জ্ঞানভিত্তিক সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ‘ভিশন ২০২১’ ঘোষণা করেছেন। এ ভিশন বাস্তবায়নে আমাদের নিরলস প্রচেষ্টা চালাতে হবে। আজকের শিক্ষিত তরুণরাই এ কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

প্রিয় সুধী,
    আপনারা জানেন, জাতি গঠনে শিক্ষার বিকল্প নেই। এজন্য সরকার শিক্ষার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেছে। বিজ্ঞান মনস্ক, তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞান ও উদার দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন শিক্ষিত সমাজ গড়ে তুলতে কারিকুল্যামে পরিবর্তনসহ জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ ঘোষণা করেছে। উচ্চশিক্ষা বিস্তারে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বাড়ানো হয়েছে। তবুও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে যে সংখ্যক মেধাবী শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক স্তর থেকে বেরিয়ে আসছে তাদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আসন সংখ্যা বাড়ানো যৌক্তিক বলে আমি মনে করি। একইসাথে আমি উচ্চশিক্ষা স্তরে গুণগত শিক্ষা ও গবেষণা বিস্তারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া আবশ্যক বলে বিশ্বাস করি। উচ্চশিক্ষা যাতে সার্টিফিকেট সর্বস্ব না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য আমি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই।

    বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্থায়ী ক্যাম্পাস, পূর্ণকালীন ফ্যাকাল্টি, লাইব্রেরী, গবেষণাগার, তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারসহ উচ্চশিক্ষার সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো জাতি গঠনের শ্রেষ্ঠ সূতিকাগার। তাই এগুলো যেন মুনাফা অর্জনকারী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে পরিণত না হয় তা সম্মিলিতভাবে নিশ্চিত করতে হবে। সমাজের পিছিয়ে পড়া ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর      সন্তানদের উচ্চ শিক্ষার সুযোগ করে দিতে আপনাদের আন্তরিক হতে হবে। আমার বিশ্বাস দেশ ও জাতির প্রতি দায়বদ্ধতার কারণে আপনারা এ মহৎ আকাক্সক্ষাগুলোকে বাস্তবে রূপ দেবেন।
প্রিয় গ্রাজুয়েটবৃন্দ,
আমি তোমাদের আবারো অভিনন্দন জানাই। তোমরা আজ গ্রাজুয়েট, দেশ ও জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ। মনে রাখবে, তোমাদের এ পর্যায়ে নিয়ে আসতে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র সর্বতোভাবে সহায়তা করছে। এখন সময় এসেছে সমাজের প্রতি সেই দায় পরিশোধের। আমার বিশ্বাস, তোমরা তোমাদের মেধা, জ্ঞান ও কর্ম দিয়ে সমাজের সেই ঋণশোধ করবে। দেশ ও মানুষকে ভালোবাসবে। আর একটা কথা বলি, জীবনে কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবে না। অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবে না। সত্য ও সুন্দরকে ধারণ করে পৃথিবীর যেখানে থাকো না কেন মাথা উঁচু করে চলবে। তুলে ধরবে বাঙালির শ্রেষ্ঠত্ব।
কবি গুরু রবীন্দ্রনাথের কথায় বলি ঃ
‘‘অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে
তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে।’’
তোমাদের চলার পথ মসৃণ হোক, সফলতায় ভরে উঠুক, এ প্রত্যাশা করি।

পরিশেষে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি। সর্বশক্তিমান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।
খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

 

Home | Contact us | Sitemap
© Copyright 2009, Bangabhaban - Bangladesh, all rights reserved.
Financed by Support to ICT Task Force (SICT) , Planing Division. Developed by : Ethics Advanced Technology Ltd. (EATL)