Top banner
Language : Bengali | English
Quick Links
 




Venue: আইডিইবি ভবন, কাকরাইল, ঢাকা
Date: 19-06-2011


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সম্মানিত সভাপতি মাননীয় ডেপুটি স্পীকার আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এবং উপস্থিত সুধীমন্ডলী আস্সালামু আলাইকুম। ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’র ৪৩তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আমি সকলকে স্বাগত জানাই। আমি এ অনুষ্ঠানে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হতে পেরে অত্যন্ত গর্ব অনুভব করছি। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ষড়যন্ত্রমূলক ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার গুরুত্ব ও তাৎপর্য বহুবিধ। এ মামলার কারণে পরবর্তীতে দেশব্যাপী গণঅভ্যুত্থান ঘটে। আমি আজ পরম শ্রদ্ধায় বিনম্র চিত্তে স্মরণ করি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বাংলার অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-কে যিনি আগরতলা মামলার ১নং আসামী ছিলেন। আমি শ্রদ্ধা জানাই আগরতলা মামলার অন্যান্য আসামীদের যাঁরা আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামেও অবদান রেখেছেন। সম্মানিত সুধীবৃন্দ, আপনারা জানেন আমাদের স্বাধীনতা একটি সুদীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের ফসল। ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ স্বাধীন হয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটো রাষ্ট্রের জন্ম হলেও বাংলার জনগণ স্বাধীনতার স্বাদ পায়নি। বরং পেয়েছে বঞ্চনা, অবহেলা। ১৯৪৮ সালে ভাষার দাবীতে এ দেশের মানুষ ফুঁসে উঠেছে। রক্তের বিনিময়ে ১৯৫২ সালে অর্জিত হয়েছে মাতৃভাষার অধিকার। এভাবে ধাপে ধাপে ’৫৮ এর সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ’৬২-এ হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলন, ’৬৬-এর ৬-দফা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান. ৭০-এর নির্বাচন এবং সর্বশেষ ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন। এ জন্য বাঙালি জাতিকে উদ্বুদ্ধ করতে হয়েছে, তৈরি করতে হয়েছে এবং বলিষ্ঠ ও সাহসী নেতৃত্ব দিতে হয়েছে। এ নেতৃত্বের পুরোভাবে ছিলেন অসীম সাহসী, বাংলার আপামর মানুষের প্রিয় নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। প্রিয় সুধীজন, আপনারা জানেন, তৎকালীন পাকিস্তান সরকার শেখ মুজিবের কণ্ঠকে রোধ করতে নানা পরিকল্পনা এটেছে। তাঁর কর্মতৎপরতা বন্ধ করতে গ্রহণ করেছে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র। বিভিন্ন অজুহাতে তাঁকে কারাগারে পাঠিয়েছে। একদিকে ক্ষমতার লোভ দিয়েছে অন্যদিকে দিয়েছে মৃত্যুর হুমকি। জাতির জনকই একমাত্র নেতা যিনি কখনো ক্ষমতার লোভের বশবর্তী হননি কিংবা মৃত্যুর পরোয়া করেন নি। বিপদে তিনি ছিলেন হিমালয়ের মতো স্থির, অবিচল। কোন কিছুই তাঁর আদর্শ থেকে বিচ্যুতি ঘটাতে পারেনি। আপনারা জানেন তৎকালীন পাকিস্তান সরকার দেশদ্রোহিতার মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ এনে ষড়যন্ত্রমূলক আগরতলা মামলা রুজু করে। উদ্দেশ্য বঙ্গবন্ধুসহ অন্যান্যদের প্রহসনমূলক বিচারের মাধ্যমে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেয়া। বাঙালির আন্দোলন চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়া। এজন্য তৎকালীন পাকিস্তান সরকার ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিব ও অন্যান্যরা’ ষড়যন্ত্রমূলক আগরতলা মামলা দায়ের করে। সম্মানিত সুধী, আগরতলা মামলায় যখন বঙ্গবন্ধুকে আসামী করা হয় তখন তিনি ঢাকা কারাগারে বন্দি। ১৮ জানুয়ারি ১৯৬৯ সালে তাঁকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে পুন:গ্রেফতার করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। যাওয়ার সময় জেল খানায় বঙ্গবন্ধুর সহযাত্রী আব্দুল মোমেনকে বলেন, ‘‘বাংলাদেশকে আপনাদের হাতে রেখে গেলাম। জানি না, কোথায় এরা আমাকে নিয়ে যাবে, হয়তো বাংলার মাটি থেকে এই আমার শেষ যাত্রা। যাবার সময় আপনাকে শুধু একটি কথা বলে গেলাম- বাংলাদেশের সাথে কোনোদিন আমি বিশ্বাসঘাতকতা করিনি, কোনদিন করবো না। আপনারা রইলেন, বাংলাদেশ রইলো। এই দেশকে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। সার্বভৌম স্বাধীনতাই আমার স্বপ্ন, আমার লক্ষ্য।’’ জাতির জনক-কে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেফতারের পর পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠনের বিশেষত আওয়ামী লীগ, বিভিন্ন বাম দল, ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা দেশব্যাপী গণআন্দোলন গড়ে তোলে। গোটা জাতি বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। আন্দোলনের এক পর্যায়ে উদ্বেলিত জনতা ১৯৬৯ সনের ১৬ ফেব্র“য়ারি ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র’ মামলার প্রধান বিচারক জাস্টিস এস এ রহমানের বাংলা একাডেমীর পাশে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। বিচারপতি পালিয়ে প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হন। দেশব্যাপী শ্লোগান ওঠে ‘‘জেলের তালা ভাঙব, শেখ মুজিবকে আনব’। গণজোয়ার ও গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার দিশেহারা হয়ে পড়ে এবং বাধ্য হয়ে ২২ ফেব্র“য়ারি ১৯৬৯ আগরতলা মামলায় শেখ মুজিবসহ অন্যান্য আসামীদের মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। আপনারা জানেন, আগরতলা মামলা থেকে মুক্তির পরের দিন ২৩ ফেব্র“য়ারি তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবকে এক গণ-সংবর্ধনা দেয়া হয়। এ সংবর্ধনা সভায় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে তাঁকে ‘‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। সম্মানিত সুধী, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা, সাহস, বিচক্ষণতা এবং জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার সম্মোহনী শক্তি আমাদের বিস্মিত করে। তিনি তৎকালীন সিভিল প্রশাসনসহ সামরিক বাহিনীর অনেক সদস্যকে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠনে উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম হন। অনেকে চাকুরীর মায়া ত্যাগ করে এমনকি মৃত্যুদন্ড উপেক্ষা করেও তাঁর আহ্বানে সাড়া দেন। আগরতলা মামলার ৩৫জন আসামীদের অধিকাংশ ছিলেন, পুলিশ, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্য। আজকের অনুষ্ঠানে সভাপতি মাননীয় ডেপুটি স্পিকার কর্ণেল শওকত আলী তাঁদের অন্যতম। আমি জানতে পেরেছি ষড়যন্ত্রমূলক আগরতলা মামলার দশজন আসামী জীবিত আছেন। আমি তাঁদের এবং যাঁরা মারা গেছেন সকলকে আমি জাতির পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। সুধীমণ্ডলী, ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা আমাদেরকে গভীরভাবে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে শেখায়। আমাদের তরুণ প্রজন্ম স্বাধীনতা সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাস সঠিকভাবে জানে না। বিভিন্ন সময়ে ইতিহাসকে বিকৃত বা খন্ডিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে আজকের প্রজন্ম দ্বিধাগ্রস্থ। তাদেরকে জাতির সঠিক ইতিহাস জানানো আমাদের দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে আমি ইতিহাসবিদ, মুক্তিযোদ্ধা, লেখক ও সুশীল সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই। পরিশেষে আমি সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি। খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা শুরুর ৪৩তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব মোঃ জিল্লুর রহমানের ভাষণ স্থান ঃ আইডিইবি ভবন, কাকরাইল, ঢাকা তারিখ ঃ রবিবার, ০৫ আষাঢ় ১৪১৮ ১৯ জুন ২০১১
Home | Contact us | Sitemap
© Copyright 2009, Bangabhaban - Bangladesh, all rights reserved.
Financed by Support to ICT Task Force (SICT) , Planing Division. Developed by : Ethics Advanced Technology Ltd. (EATL)