Top banner
Language : Bengali | English
Quick Links
 




Venue: বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র, ঢাকা
Date: 21-06-2011


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, মাননীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী প্রফেসর ডা. আ. ফ.ম রুহুল হক, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী জনাব নুরুল ইসলাম নাহিদ, এমপি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সম্মানিত চেয়ারম্যান ড. এ কে আজাদ চৌধুরী, সম্মানিত সমাবর্তন বক্তা প্রফেসর জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, অনুষদ সদস্যবৃন্দ, গবেষকবৃন্দ, ডিগ্রী অর্জনকারী গ্রাজুয়েটবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এবং উপস্থিত সুধীমন্ডলী, আস্সালামু আলাইকুম। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনের এই মহতি অনুষ্ঠানে আপনাদের মাঝে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দ অনুভব করছি। আমি সমাবর্তনে আগত সকলকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ তের বছর পর বিশেষায়িত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন একটি স্মরণীয় ঘটনা। আমি মনে করি এ সমাবর্তনের মধ্য দিয়ে একদিকে গ্রাজুয়েটগণ তাদের অর্জিত ডিগ্রীর আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেলেন অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ও নব উদ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা লাভ করলো। আমি ডিগ্রী অর্জনকারী সকল গ্রাজুয়েট ও গবেষককে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই এবং একইসাথে তাদের অভিভাবক ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। সমাবর্তনের এই শুভ দিনে আমি পরম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যাঁর নামে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমি স্মরণ করি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী সকল শহীদের। আমি তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। সম্মানিত সুধী, যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি জনগণের মৌলিক অধিকার। আমাদের সংবিধানে নাগরিকদের অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করণের কথা বলা হয়েছে। জনগণের সুস্বাস্থ্য উন্নয়নের পূর্বশর্ত। সুস্বাস্থ্য এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ যা জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকার প্রত্যেক নাগরিকের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর ফলে জনগণের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে ৬৭ দশমিক ২ বছরে উন্নীত হয়েছে। নবজাত শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার হ্রাসে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। শিশু মৃত্যু হ্রাসের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের তুলনায় অগ্রগতি অর্জন করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালে জাতিসংঘ এমডিজি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। আমি মনে করি এটি একটি মাইলফলক। সরকার জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেবার লক্ষ্যে কমিউনিটি ক্লিনিক চালু, হাসপাতালসমূহে শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধিসহ ডাক্তার, নার্স ও সাপোর্টিং স্টাফ নিয়োগ দিয়েছে। আমার বিশ্বাস এসব কার্যক্রম জনগণের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সুধীমণ্ডলী, আমরা জানি স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। স্বাস্থ্যহীন ব্যক্তির যত সম্পদই থাকুক না কেন-তাতে তিনি আনন্দ খুঁজে পান না। সামনে হাজারো রকমের লোভনীয় খাবার থাকলেও খেতে পারেন না। রুগ্ন স্বাস্থ্যের কারণে জীবন অর্থহীন মনে হয়। তাই জনগণকে স্বাস্থ্য সচেতন করে তোলা খুবই জরুরী বলে আমি মনে করি। 'চৎবাবহঃরড়হ রং নবঃঃবৎ ঃযধহ পঁৎব' এ প্রবাদটি আমাদের বাস্তবে প্রয়োগ ঘটাতে হবে। বাংলাদেশ ফলের দেশ, গানের দেশ। কবির কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে ‘ধন ধান্য পুষ্প ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা’। সত্যিকার অর্থে এমন দেশ পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া কঠিন। কিন্তু আজ আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি এক ধরণের অসাধু ও অর্থলোভী ব্যক্তির কারণে মধু মাসেও আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে মৌসুমি ফল খেতে দ্বিধাবোধ করছি। পত্রিকায় দেখেছি বিভিন্ন ফলে মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর বিষ মিশিয়ে ফলকে অকালে পাকানো হচ্ছে। এটা আমাদের জন্য তো বটেই পরবর্তী প্রজন্মের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এজন্য আমাদের বিবেককে জাগ্রত করতে হবে। এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আমি দেশের বিজ্ঞ চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে এ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই। পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আইন প্রয়োগের আহ্বান জানাই। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠী পল্লীতে বসবাস করে। তাদের ক্রয়ক্ষমতা সীমিত। তারা রোগে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পারে না, পায় না বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সেবা। জাতীয় স্বার্থে তাই আমাদের সামগ্রিক চিকিৎসা সেবাকে গ্রামমুখী করতে হবে। চিকিৎসকদের শহরে থাকার মানসিকতা পরিবর্তন করে মানবতার কল্যাণে একটা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত পল্লী এলাকার জনগণকে চিকিৎসা সেবা দিতে হবে। আমার জেনে অত্যন্ত ভাল লাগছে সম্প্রতি নিয়োগকৃত তিন হাজারেরও অধিক চিকিৎসক পল্লীর জনগণের চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত আছেন। সম্মানিত সুধী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় মূলত দেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার একমাত্র প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চতর ডিগ্রী নিয়ে অনেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে দেশ-বিদেশে সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। আমি আশা করি চিকিৎসা শাস্ত্রের এই উচ্চতর প্রতিষ্ঠানটি গবেষণা কার্যক্রম বাড়িয়ে বিশ্বমানের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সৃষ্টিতে আরো অবদান রাখতে সক্ষম হবে। গবেষণার জন্য যেমন অর্থের প্রয়োজন তেমনি প্রয়োজন নিবেদিত প্রাণ শিক্ষক ও গবেষকের। এ দু’য়ের সম্মিলনে বেরিয়ে আসে গবেষণার ফসল। আমি আশা করবো এ প্রতিষ্ঠান থেকে পরিচালিত গবেষণা কর্ম কেবল রোগীর উপকার নয় বিশ্ব চিকিৎসা অঙ্গনেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে আমার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। ডিগ্রীপ্রাপ্ত সম্মানিত গবেষক ও øাতকবৃন্দ, আমি আপনাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আপনাদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম আজ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পেল। আজকের দিনটি তাই আপনাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের। আপনাদের সাথে আমিও গৌরব অনুভব করছি। আজকে আমার সবচেয়ে ভাল লাগছে দেশের প্রথিতযশা, বরেণ্য ও প্রবীণ চিকিৎসকদের সম্মানসূচক পিএইচ.ডি ডিগ্রী প্রদান করতে পেরে। এসব চিকিৎসকগণ জাতীয় জীবনে অসামান্য অবদান রেখেছেন। মানবতার সেবা পরম ধর্ম। সেবার মূল্যকে কখনো আর্থিকভাবে পরিমাপ করা যায় না। সেবার মধ্যে যে পরিতৃপ্তি আছে তা অন্য কোন কিছুর মধ্যে নেই। একজন মুমূর্ষু রোগী চিকিৎসা নিয়ে মহান সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় জীবন ফিরে পেয়ে যে আনন্দ অনুভব করে তা বর্ণনাতীত। তাই আমার দৃষ্টিতে চিকিৎসা সেবাই পৃথিবী শ্রেষ্ঠ সেবা, শ্রেষ্ঠ পেশা। আপনারা সবাই জ্ঞানী-গুণী এবং সর্বোচ্চ মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ। আমি আশা করবো মহান দেশ-প্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এ মানবিক মূল্যবোধকে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেবেন। আপনাদের সেবা ও পরামর্শে অসহায় রোগীরা আশার আলো দেখবে, ফিরে পাবে বেঁচে থাকার প্রেরণা। আপনাদের সেবার পরিধি শহরের গন্ডি পেরিয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়–ক এ প্রত্যাশা করি। আপনাদের চলার পথ আরো উজ্জ্বল হোক, সাফল্যমন্ডিত হোক। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন। পরিশেষে আমি আপনাদের সকলের মঙ্গল এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ কামনা করে আমার বক্তব্য শেষ করছি। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম সমাবর্তন উপলক্ষে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের চ্যান্সেলর জনাব মোঃ জিল্লুর রহমানের ভাষণ স্থান ঃ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র, ঢাকা তারিখ ঃ মঙ্গলবার, ০৭ আষাঢ় ১৪১৮ ২১ জুন ২০১১
Home | Contact us | Sitemap
© Copyright 2009, Bangabhaban - Bangladesh, all rights reserved.
Financed by Support to ICT Task Force (SICT) , Planing Division. Developed by : Ethics Advanced Technology Ltd. (EATL)