Top banner
Language : Bengali | English
Quick Links
 




Venue: ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন, ঢাকা।
Date: 17-08-2011


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পরিষদের সম্মানিত সভাপতি প্রফেসর ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্মানিত প্রেসিডিয়াম সদস্য এ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়েল ট্রাষ্ট এর সদস্য সচিব জনাব হাফিজুর রহমান পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জনাব আবদুস সালাম মৃধা এবং উপস্থিত সুধীমণ্ডলী আসসালামু আলাইকুম। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পরিষদ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আসতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমি বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। আগস্ট মাস শোকের মাস। আমি আজ পরম শ্রদ্ধায় বিনম্্রচিত্তে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করছি মহান স্বাধীনতাযুদ্ধসহ ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের। আমি স্মরণ করছি জেলখানায় শহীদ জাতীয় চার নেতা, ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুর সাথে তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যদের, ২১ আগস্ট বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় আমার সহধর্মিণী শহীদ আইভি রহমানসহ অন্যান্য শহীদ নেতাকর্মীদের। আমি তাঁদের সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আপনারা জানেন বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা রেনুর জš§ ১৯৩০ সালে টুঙ্গিপাড়ার শেখ পরিবারে। ছোটবেলায় তিনি পিতৃমাতৃহীন হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় তাঁকে বুকে টেনে নেন বঙ্গবন্ধুর মাতাপিতা। তাঁরা তাঁকে অপত্য øেহে লালন পালন করেন। তিনি ছিলেন ধীরস্থির, øেহময়ী, বুদ্ধিমতি, দূরদর্শী ও সর্বংসহা, যা তাঁর পরবর্তী জীবনে প্রতিফলিত হয়। অল্প বয়সে বঙ্গবন্ধুর সাথে তিনি পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন। বঙ্গবন্ধু তখন ছাত্র। জীবন ও জগৎ সম্পর্কে তেমন অভিজ্ঞতা না থাকলেও বঙ্গমাতা তাঁর স্বামীর ছাত্ররাজনীতিতে সম্পৃক্ততার কথা লোকমুখে জেনে গেছেন। কোলকাতায় স্বামীর লেখাপড়া জীবন ছাড়াও ছাত্র রাজনীতিতে ভূমিকা, দেশসেবার কথা তাঁকে মুগ্ধ করতো। তিনি ক্রমে স্বামীর জীবনাদর্শ উপলব্ধি করতে শেখেন। তাই ফজিলাতুন্নেছা কৈশোর বয়স থেকেই বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে যান। ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কেবল বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বিপদে-আপদে, সংকট-প্রতিকূলে তাঁর পরম আশ্রয়। তিনি তাঁকে পরামর্শ দিতেন, যুগাতেন সাহস। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগকে পরোক্ষভাবে নেতৃত্ব এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করতেন। দলের প্রয়োজনে তিনি নিজ হাতের সোনার বালা বিক্রী করে সংগঠন পরিচালনার অর্থের যোগান দিয়েছেন। মূলত: বঙ্গবন্ধু যে জাতির পিতা হয়েছেন এর পেছনে রয়েছে মহীয়সী নারী বঙ্গমাতার অপরিসীম অবদান। বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন সময়ে ১৪ বছর কারাদন্ডকালীন দলের কঠিন সংকটে হিমালয়ের মতো স্থির থেকে শান্ত মাথায় সমস্যার সমাধান প্রদান করতেন বঙ্গমাতা। সংকটে বিচক্ষণ পরামর্শদাতা এবং সুখে-দুঃখে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর প্রাণপ্রিয় দলের সারথী হিসেবে তাঁর অবদান চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন বঙ্গমাতা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে পুত্রকন্যা, শ্বশুর-শাশুড়ি নিয়ে নিজে গৃহবন্দি অবস্থায় সংসার ও দলের হাল ধরেছেন। দুর্বিসহ কষ্ট ও যন্ত্রনা সহ্য করে অসীম ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছেন। আমরা দেখি দেশের প্রতিষ্ঠাতা বা রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী হয়েও তিনি অতি সাধারণভাবে চলাফেরা করতেন। আড়ম্বড়তা তাঁর মধ্যে কখনো দেখিনি। তাঁর মতো সহজ-সরল, নির্লোভ, নিরহংকার, øেহপ্রবণ, পরোপকারী মানুষ আমি খুব কমই দেখেছি। মূলত তিনি ছিলেন চিরায়ত বাংলার উজ্জ্বল প্রতিকৃতি। তিনি তাঁর কর্মের গুণেই পরিণত হয়েছেন বঙ্গমাতা হিসেবে। সুধীমন্ডলী, আমার পরম সৌভাগ্য হয়েছিল বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছাকে কাছ থেকে দেখার। বঙ্গবন্ধুর সহচর হিসেবে রাজনৈতিক বিষয়াদি আলোচনার জন্য আমি ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাসায় বহুবার গিয়েছি। বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যের পাশাপাশি আমি শ্রদ্ধেয় ভাবীর অপার øেহ পেয়েছি। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে সঠিক দিক নির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদানের যোগ্যতা ছিল বলেই, আমরা সমস্যা ও সংকটে তার কাছে ছুটে যেতাম। তিনি আমাদের সুষ্ঠু সমাধান দিয়ে দিতেন, পরামর্শ দিতেন। মানুষের প্রতি তাঁর যে দরদ ও মমতা তা ভুলবার নয়। সে দিনের সে সব স্মৃতি মনে হলে আমি আজও আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়ি। তাই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে বঙ্গমাতার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জাতি গঠনে বঙ্গমাতা অবদান নতুন প্রজš§কে জানানো আমাদের দায়িত্ব। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পরিষদ এ কাজে নিয়োজিত থাকায় আমি তাঁদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আমি আশা করি তাঁদের এই মহতী উদ্যোগ আমাদের তরুণ প্রজš§কে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে। জাতির দুর্ভাগ্য ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাথে বঙ্গমাতা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের স্বাধীনতা বিরোধী ঘাতক চক্রের হাতে নির্মমভাবে শহীদ হতে হয়। বাঙালি জাতির ইতিহাসে এ এক শোকাবহ ঘটনা। আমি আজ এই মহীয়সী নারী ও তাঁর পরিবারের সকল শহীদ সদস্যের আÍার মাগফিরাত কামনা করছি। পরিশেষে সবাইকে ধন্যবাদ এবং বঙ্গমাতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি। খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পরিষদ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব মোঃ জিল্লুর রহমানের ভাষণ। স্থান ঃ ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন, ঢাকা। তারিখ ঃ বুধবার, ২৪ ভাদ্র ১৪১৮ ১৭ আগস্ট ২০১১
Home | Contact us | Sitemap
© Copyright 2009, Bangabhaban - Bangladesh, all rights reserved.
Financed by Support to ICT Task Force (SICT) , Planing Division. Developed by : Ethics Advanced Technology Ltd. (EATL)