Top banner
Language : Bengali | English
Quick Links
 




Venue: ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন
Date: 20-08-2011


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম গোপালগঞ্জ জেলা সমিতির সম্মানিত সভাপতি জনাব শেখ কবির হোসেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্মানিত প্রেসিডিয়াম সদস্য জনাব শেখ ফজলুল করিম সেলিম, এমপি, মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী জনাব মুহাম্মদ ফারুক খান, এমপি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা: সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মানিত গভর্ণর ড. আতিউর রহমান, গোপালগঞ্জ জেলা সমিতি, ঢাকার সম্মানিত সদস্যবৃন্দ এবং উপস্থিত সুধীমণ্ডলী, আস্সালামু আলাইকুম। ঢাকাস্থ গোপালগঞ্জ জেলা সমিতি আয়োজিত সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩৬তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস ২০১১ উপলক্ষে ‘বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। বক্তব্যের শুরুতে আমি বিনম্র চিত্তে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করছি বঙ্গবন্ধু পরিবারের শহীদ সদস্যদের, জেলখানায় শহীদ জাতীয় চারনেতা, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাসহ ভাষা আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের। স্মরণ করছি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত শহীদ আইভি রহমানসহ অন্যান্য শহীদ নেতা কর্মীদের। আমি তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। সম্মানিত সুধী, বাংলা ও বাংলাদেশের সাথে বঙ্গবন্ধুর নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাঁর সারা জীবনের লালিত স্বপ্ন ছিল বাঙালিকে একটি স্বাধীন সার্বভৌম আলাদা জাতিরাষ্ট্র উপহার দেয়া। এজন্য তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন। ক্ষমতা, নাম, যশ, প্রতিপত্তি বা প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি রাজনীতি করেননি। সাধারণ মানুষের কল্যাণই ছিল রাজনীতির লক্ষ্য। বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত সব কটি আন্দোলন সংগ্রামে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। এজন্য তাঁকে বারবার কারাবরণ করতে হয়েছে, যেতে হয়েছে ফাঁসির মঞ্চে। বাঙালি জাতির ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুই একমাত্র নেতা যিনি তাঁর অসীম সাহস, অসাধারণ নেতৃত্ব এবং ঐন্দ্রজালিক বাগ্মিতার মাধ্যমে গোটা বাঙালি জাতিকে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেন এবং মুক্তিসংগ্রামে প্রস্তুত করেন। ১৯৭১ এর ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে লাখো মানুষের জনসমুদ্রে তিনি বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন ‘‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’’। পরাধীন রাষ্ট্রে স্বাধীনতার জন্য এরূপ উদাত্ত আহ্বান ইতোপূর্বে কোন রাজনৈতিক নেতা করেননি। তাই তিনি জাতির পিতা। দেশ ও জনগণের প্রতি এতো গভীর ভালবাসা, মমত্ববোধ আর কোন নেতার মাঝে খুঁজে পাওয়া যাবে না। বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন দেশ থেকে ক্ষুধা, দারিদ্র ও অন্যায় দূর করে এ দেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করার। সে লক্ষ্যে তিনি কাজও শুরু করেছিলেন। ১৯৭৩ সালে ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে বলেছিলেন, “দেশ গড়ার সংগ্রামে আরো বেশি আÍত্যাগ, আরও বেশি ধৈর্য্য, আরও বেশি পরিশ্রম দরকার। সকলেই সৎপথে থেকে সাধ্যমত নিজের দায়িত্ব পালন করি এবং সবচাইতে বড় কথা সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকি তাহলে আমি বিনা দ্বিধায় বলতে পারি ইনশাল্লাহ্ কয়েক বছরেই আমাদের স্বপ্নের বাংলা আবার সোনার বাংলায় পরিণত হবে”। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা’র স্বপ্ন পূরণ করতে দেয়নি স্বাধীনতা বিরোধী ঘাতক চক্ররা। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট কালোরাতে ঘাতকের নির্মম বুলেটে শহীদ হন জাতির জনক এবং তাঁর পরিবারের আপনজনেরা। যে নেতা না জš§ালে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জš§ হতো না সেই রাষ্ট্র নায়ককে হত্যা করল তারা। ধিক্কার জানাই সেইসব নরপশু স্বাধীনতা বিরোধীদের। তারা ভেবেছিল জাতির জনকের হত্যার মাধ্যমে তাঁর আদর্শ মুছে যাবে। কিন্তু না। এদেশ, এদেশের জনগণ যতদিন থাকবে, ততদিন বঙ্গবন্ধুর অবদান ও আদর্শ অক্ষয় হয়ে থাকবে শতকোটি বাঙালির হৃদয়ে। তাঁর আদর্শ চিরদিন নতুন প্রজš§কে দেশ গড়ার কাজে অনুপ্রেরণা যোগাবে। আশার কথা, দীর্ঘ ৩৫ বছর পরে হলেও জাতির জনক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকারী ঘাতকদের বিচার বাংলার মাটিতে সম্পন্ন হয়েছে। জাতি আজ অনেকটা কলঙ্কমুক্ত। যেসব মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ঘাতক আজো বিদেশে পালিয়ে রয়েছে তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় কার্যকর করতে সর্বোচ্চ তৎপরতা চালাতে হবে। জাতি জানবে হত্যাকারীদের ঠাঁই পৃথিবীর কোথাও নেই। আজ আমাদের দায়িত্ব হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাকে বাস্তবে রূপায়িত করা। জাতির জনকের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর পিতার মতোই গরীব ও দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে ‘ভিশন ২০২১’ ঘোষণা করেছেন। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। সকল লোভ-লালসা ও সংকীর্ণতার উর্ধ্বে উঠে দলমত নির্বিশেষে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে দেশ গঠনের কাজে আÍনিয়োগ করতে হবে। আসুন, আমরা আমাদের মেধা, মনন ও পরিশ্রম দিয়ে বাংলাদেশকে সুখী সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করি। ‘গোপালগঞ্জ জেলা সমিতি, ঢাকা’ এর যোগ্য সভাপতি জনাব শেখ কবির হোসেনের নেতৃত্বে সমিতি নানা জনকল্যাণমূলক কাজ করে যাচ্ছে জেনে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা ও আদর্শ বর্তমান ও আগামী প্রজšে§র কাছে পৌঁছে দিতে এ সমিতি যথাযথ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। সেজন্য আমি সমিতির সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পরিশেষে এই মহতী অনুষ্ঠানের আয়োজনের জন্য আমি আয়োজক কর্তৃপক্ষ এবং অংশগ্রহণকারী সবাইকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হউন। খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হউক। গোপালগঞ্জ জেলা সমিতি, ঢাকা কর্তৃক আয়োজিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩৬তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ‘বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব মোঃ জিল্লুর রহমানের ভাষণ। স্থান ঃ ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন তারিখ ঃ শনিবার, ০৫ ভাদ্র ১৪১৮ ২০ আগস্ট ২০১১
Home | Contact us | Sitemap
© Copyright 2009, Bangabhaban - Bangladesh, all rights reserved.
Financed by Support to ICT Task Force (SICT) , Planing Division. Developed by : Ethics Advanced Technology Ltd. (EATL)