Top banner
Language : Bengali | English
Quick Links
 




Venue: রূপসী বাংলা হোটেল, ঢাকা।
Date: 08-09-2011


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বঙ্গমাতা পরিষদের সম্মানিত সভাপতি অধ্যক্ষ রাজিয়া মতিন চৌধুরী, মাননীয় সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. দুর্গাদাস ভট্টাচার্য, বঙ্গমাতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এম আনিসুর রহমান, এবং উপস্থিত সুধীমণ্ডলী আসসালামু আলাইকুম। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৮১তম জন্মবার্ষিকীতে আমি এ মহীয়সী নারীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। আমি পরম শ্রদ্ধায় বিনম্্রচিত্তে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করছি মহান স্বাধীনতাযুদ্ধসহ ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের। আমি স্মরণ করছি জেলখানায় শহীদ জাতীয় চার নেতা, ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুর সাথে তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যদের, ২১ আগস্ট বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় শহীদ, আমার সহধর্মিণী আইভি রহমানসহ অন্যান্য শহীদ নেতাকর্মীদের। আমি তাঁদের সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। সুধীমণ্ডলী, আপনারা জানেন, কিছু কিছু মানুষের জন্ম হয় দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্য। তাঁরা অনেক সময় অন্তরালে থেকে নিরবে গণমানুষের জন্য কাজ করে যান। তাঁরা নিজের কথা ভাবেন না। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব তাঁদেরই একজন। বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা রেণুর জš§ ১৯৩০ সালে ০৮ আগস্ট টুঙ্গিপাড়ার শেখ পরিবারে। ছোটবেলায় তিনি পিতৃমাতৃহীন হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় তাঁকে বুকে টেনে নেন বঙ্গবন্ধুর মাতাপিতা। তাঁরা তাঁকে অপত্য øেহে লালন পালন করেন। তিনি ছিলেন ধীরস্থির, øেহময়ী, বুদ্ধিমতি ও দূরদর্শী যা তাঁর পরবর্তী জীবনে প্রতিফলিত হয়। অল্প বয়সে বঙ্গবন্ধুর সাথে তিনি পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন। বঙ্গবন্ধু তখন ছাত্র। জীবন ও জগৎ সম্পর্কে তেমন অভিজ্ঞতা না থাকলেও বঙ্গমাতা তাঁর স্বামীর ছাত্ররাজনীতিতে সম্পৃক্ততার কথা লোকমুখে জেনে গেছেন। তাই ফজিলাতুন্নেছা কৈশোর বয়স থেকেই বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের সাথে পরিচিত ছিলেন। ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কেবল বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বিপদে-আপদে, সংকট ও সমস্যায় তাঁর পরম আশ্রয়। তিনি বঙ্গবন্ধুকে পরামর্শ দিতেন, যুগাতেন সাহস। আমরা দেখি আগড়তলা মামলায় প্যারোলে মুক্তি দিয়ে গোল টেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণের প্রস্তাব বঙ্গমাতা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করেন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণে জাতির জনক যে ‘স্বাধীনতা সংগ্রামের’ ঘোষণা দিয়েছিলেন তার অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন বঙ্গমাতা। নজরুলের ভাষায় ঃ ‘কোনো কালে একা হয়নি ক’জয়ী পুরুষের তরবারী, প্রেরণা দিয়াছে, শক্তি দিয়াছে বিজয়-লক্ষ্মী নারী।’ সম্মানিত সুধী, বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন সময়ে ১৪ বছর কারাদন্ডকালীন দলের সংকটে হিমালয়ের মতো স্থির থেকে শান্ত মাথায় সমস্যার সমাধান প্রদান করতেন বঙ্গমাতা। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগকে পরোক্ষভাবে নেতৃত্ব এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করতেন। দলের প্রয়োজনে তিনি নিজ হাতের সোনার বালা বিক্রী করে সংগঠন পরিচালনার অর্থের যোগান দিয়েছেন। মূলত: বঙ্গবন্ধু যে জাতির পিতা হয়েছেন এর পেছনে রয়েছে মহীয়সী নারী বঙ্গমাতার অপরিসীম অবদান। সংকটে বিচক্ষণ পরামর্শদাতা এবং সুখে-দুঃখে বঙ্গবন্ধু ও তার প্রাণপ্রিয় দল আওয়ামী লীগের সারথী হিসেবে তাঁর অবদান চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন বঙ্গমাতা গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে পুত্রকন্যা, শ্বশুর-শাশুড়ি নিয়ে নিজে গৃহবন্দি অবস্থায় সংসার ও দলের হাল ধরেছেন। দুর্বিসহ কষ্ট ও যন্ত্রনা সহ্য করে অসীম ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছেন। আমরা দেখি একটি স্বাধীন দেশের প্রতিষ্ঠাতা বা রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী হয়েও তিনি অতি সাধারণভাবে জীবন যাপন করতেন। আড়ম্বড়তা তাঁর মধ্যে কখনো দেখিনি। তাঁর বাসা থেকে কেউ না খেয়ে যেতে পারতো না। আত্মীয়-অনাতœীয় নির্বিশেষে তিনি সকলের সাথে øেহময়ী মায়ের মতো আচরণ করতেন। তাঁর মতো øেহময়ী সহজ-সরল, নির্লোভ, নিরহংকার, পরোপকারী মানুষ আমি জীবনে খুব কমই দেখেছি। মূলত তিনি ছিলেন চিরায়ত বাংলার উজ্জ্বল প্রতীক। তিনি তাঁর কর্মের গুণেই পরিণত হয়েছেন বঙ্গমাতা হিসেবে। ইতিহাসে গান্ধী পত্মী কস্তুরীবাই, নেহেরু পতœী কমলা, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জনের পতœী বাসন্তী দেবী, ম্যান্ডেলা পতœী উইনী বিখ্যাত হয়ে আছেন স্বামীর সহযোদ্ধা হিসেবে। বঙ্গমাতা ফজিলাতুনন্নেছাও বঙ্গবন্ধুর সাথে ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবেন তাঁর নিজের কর্ম ও গুণাবলীর কারণে। তাঁর আদর্শ সকলের জন্য অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়। তাই আমি ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জীবন ও কর্ম থেকে শিক্ষা লাভের জন্য নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। জাতির দুর্ভাগ্য, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাথে বঙ্গমাতা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের স্বাধীনতা বিরোধী ঘাতক চক্রের হাতে নির্মমভাবে শহীদ হতে হয়। বাঙালি জাতির ইতিহাসে এ এক শোকাবহ ঘটনা। আমি আজ এই মহীয়সী নারী ও তাঁর পরিবারের সকল শহীদ সদস্যের আÍার মাগফিরাত কামনা করছি। পরিশেষে সবাইকে ধন্যবাদ এবং বঙ্গমাতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি। খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। বঙ্গমাতা পরিষদ আয়োজিত বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৮১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব মোঃ জিল্লুর রহমানের ভাষণ। স্থান ঃ রূপসী বাংলা হোটেল, ঢাকা। তারিখ ঃ বৃহস্পতিবার, ২৪ ভাদ্র ১৪১৮ ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১১
Home | Contact us | Sitemap
© Copyright 2009, Bangabhaban - Bangladesh, all rights reserved.
Financed by Support to ICT Task Force (SICT) , Planing Division. Developed by : Ethics Advanced Technology Ltd. (EATL)