Top banner
Language : Bengali | English
Quick Links
 




Venue: বঙ্গভবন
Date: 28-09-2011


বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহিম কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার প্রধান উপদেষ্টা জনাব ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা’র সম্মানিত পৃষ্ঠপোষক, সভাপতি ও সদস্যবৃন্দ, উপস্থিত সুধীমণ্ডলী এবং আমার পরম øেহের সোনামনিরা আসসালামু আলাইকুম। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আজ ৬৫তম জন্মদিন। জাতির এই বরেণ্য সন্তানের শুভ জন্মদিনে দেশবাসী ও আমার নিজের পক্ষ থেকে আমি তাঁকে উষ্ণ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। আপনারা জানেন ১৯৪৭ সালের ২৮শে সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ হাসিনার জন্ম। রাজনৈতিক পরিবারে জন্মের কারণেই তিনি শৈশব থেকে গণমানুষের সুখ দুঃখের অনুভূতিকে ধারণ করেছেন। ষাটের দশকে তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন তাঁর পিতার রাজনীতির সেই উত্তাল দিনগুলি। নিজেও ছাত্রাবস্থায় রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি দেখেছেন স্বৈরশাসন, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা পরবর্তী গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে পুনরায় স্বৈরতন্ত্রের উত্থান। তিনি উপলব্ধি করেছেন গণতন্ত্র ছাড়া মানুষের মুক্তি ও অগ্রগতি আসে না। তাই তাঁর চেতনার সাথে মিশে আছে এদেশের গণমানুষের মুক্তি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন আর গণতন্ত্রের অভিযাত্রা। সোনামনি বন্ধুরা, তোমরা নিশ্চয়ই জানো, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে আমরা ১৯৭১ সনে আমাদের প্রিয় স্বাধীনতা লাভ করি। স্বাধীনতা লাভের পর বাংলাদেশের পুনর্গঠনের সময় স্বাধীনতা বিরোধীচক্র সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে। বিদেশে অবস্থান করছিলেন বলে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সে সময় ঘাতকের হাত থেকে রক্ষা পান। পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন তাঁদের দেশে আসতে দেয়া হয়নি। নানা প্রতিকূলতার মধ্যে ১৯৮১ সনে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে আসতে দেয়া হয়। তিনি এসেই ঘোষণা করেন, ‘‘আমার অন্যতম প্রধান কাজ হবে দেশের জনগণের পূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুজ্জীবিত করা’’। তার পরে তিনি মু্িক্তযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করেন। গণতন্ত্র উদ্ধারে অবিরাম নেতৃত্ব দেন। শত বাঁধা ও প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে তিনি সামনে এগিয়ে চলেন। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে এই দলটি জনগণের বিপুল সমর্থন নিয়ে রাষ্ট্রপরিচালনার সুযোগ পায়। তিনি দরিদ্র ও দু:খী মানুষের কল্যাণে অনেক কাজ করেছেন এবং করছেন। বিগত সময়ে করা পার্বত্য শান্তি চুক্তি এবং গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি ইত্যাদি ঐতিহাসিক অর্জনে এই নেত্রীর ভূমিকা অগ্রণী। বিপুল খাদ্য শস্য উৎপাদনের জন্য বিগত শতাব্দীর শেষ দিকে তিনি জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ‘সেরেস’ পদক লাভ করেন। এবারেও তাঁর অর্জন কম নয়। সারা বিশ্বের সকল দেশের অর্থনীতিতে যখন মন্দা তখন বাংলাদেশের ৬-৭ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, কম কথা নয়। নারী ও শিশু উন্নয়নে অবদান রেখে তিনি গত বছর জাতিসংঘের এম ডি জি পুরস্কার লাভ করেন। এবছর লাভ করেছেন ‘সাউথ সাউথ’ পুরস্কার। এগুলো শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ফসল। আমি গত বছর লন্ডনে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানে ক্রমওয়েল হাসপাতালে ব্রিটিশ কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যান ও কেবিনেট মন্ত্রী বেরোনেস সাঈদা ওয়ারসী রাণীর শুভেচ্ছা বার্তা নিয়ে আমার সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। সেই সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ''ঝযবরশয ঐধংরহধ রং ঃযব নবংঃ ংড়ঁৎপব ড়ভ রহংঢ়রৎধঃরড়হ''. সত্যিই শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের পাশাপাশি গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা সারা বিশ্বের মানুষকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায়; বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে উত্থাপিত তার শান্তির মডেল, জাতিসংঘে বাংলা ভাষায় ভাষণ প্রদান ও জাতিসংঘের অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষার অন্তর্ভুক্তিতে তাঁর ভূমিকা তাঁকে বিশ্ব নেত্রীর মর্যাদা প্রদান করেছে। তিনি নতুন প্রজন্মের নিকট অনুকরণীয় আদর্শে পরিণত হয়েছেন। আমরা এই সফল নেত্রীর জন্মদিনে তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি। আমি তরুণ প্রজন্মকে বলবো তোমরা আমাদের স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস জানবে, জানবে বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা। এদেশের স্বাধিকার ও মুক্তিসংগ্রামে যাঁরা জীবন উৎসর্গ করেছেন তাঁদের কথা জানবে। তা হলে তোমাদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত হবে। দেশকে ভালবাসতে পারবে। দেশের কল্যাণে অবদান রাখতে পারবে। তোমাদের নিকট এটাই জাতির প্রত্যাশা। পরিশেষে সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি। খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মেলা’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতির ভাষণ স্থান ঃ বঙ্গভবন তারিখ ঃ ১৩ আশ্বিন ১৪১৮ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১১ সময় ঃ দুপুর ১২.০০
Home | Contact us | Sitemap
© Copyright 2009, Bangabhaban - Bangladesh, all rights reserved.
Financed by Support to ICT Task Force (SICT) , Planing Division. Developed by : Ethics Advanced Technology Ltd. (EATL)