Top banner
Language : Bengali | English
Quick Links
 




Venue: বঙ্গভবন
Date: 17-03-2012


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার প্রিয় বন্ধুরা আসসালামু আলাইকুম। বঙ্গভবনে তোমাদের স্বাগত জানাই। তোমরা আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা নাও। তোমরা নিশ্চয়ই জানো আজ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯২তম জš§বার্ষিকী। এ দিনটি বাঙালি জাতির জন্য অত্যন্ত আনন্দের দিন। জাতির জনকের বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্ম যাতে তোমাদের মতো তরুণ প্রজš§ পুরোপুরিভাবে জানতে পারে এজন্য তাঁর জš§দিনকে ‘জাতীয় শিশু দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আমি আশা করি তরুণ প্রজš§ এ দিবসের মধ্য দিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতার জীবন ও কর্ম এবং স্বাধীনতা অর্জনে তাঁর অসামান্য অবদান সম্পর্কে জানতে পারবে। সুন্দর এ আয়োজনের জন্য আমি ‘বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা’র সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। প্রিয় বন্ধুরা, তোমরা জানো, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জš§গ্রহণ করেন। বাংলার আলো-হাওয়ায় বেড়ে ওঠা এই কিশোর ছিলেন প্রকৃতির মতো উদার। ছিলেন মানবদরদী, সাহসী এবং অন্যায়ের প্রতিবাদী। মানুষের জন্য ছিল তাঁর সীমাহীন ভালবাসা। দুস্থ ও গরীব মানুষের দুঃখ-কষ্ট তিনি সইতে পারতেন না। তাদের জন্য তাঁর মন কাঁদতো। তিনি তাদের সাহায্য সহযোগিতা করতেন। শৈশব থেকেই বঙ্গবন্ধুর হৃদয়ে বাংলার দরিদ্র মানুষকে সুখী করার যে স্বপ্ন ছিল, যৌবনে তা আরো পূর্ণতা পায়। তিনি হয়ে ওঠেন বাংলার অবহেলিত মানুষের কণ্ঠস্বর। ’৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ’৫৮ এর সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ’৬৬-এর ৬-দফা, ’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭০ এর সাধারণ নির্বাচন প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি নেতৃত্ব দান করেন। এজন্য তাঁর উপর নেমে আসে অমানবিক নির্যাতন। তবুও তিনি বাংলার জনগণের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে তৎকালীন পাকিস্তানী সরকারের সাথে আপোষ করেননি। ক্ষমতার লোভও করেননি। বরং জেল-জুলুম-হুলিয়া মাথায় নিয়ে তিনি ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার উদ্দেশ্যে বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন ‘‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’’। ১৯৭১ সালে ২৬শে মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র সংগ্রাম ও ত্রিশ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা অর্জন করি কাঙ্খিত স্বাধীনতা। এ স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে তোমাদের অবদান রাখতে হবে। কারণ তোমরাই আগামী দিনে জাতির কর্ণধার। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘সোনার বাংলা গড়তে হলে সোনার মানুষ চাই’। সোনার মানুষ বলতে তিনি সৎ, যোগ্য, চরিত্রবান ও মেধাবীদের বুঝিয়েছেন। তোমরা তোমাদের আচার-আচরণ, চিন্তাচেতনা, কর্ম এবং জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে, সোনার মানুষ হবে-এটাই সকলের প্রত্যাশা। সম্মানিত অভিভাবকবৃন্দ, আমাদের তরুণ প্রজš§কে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তোলা আমাদের সকলের দায়িত্ব। তাদের সামনে আমাদের সমৃদ্ধ ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে; যাতে তারা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে পারে, জানতে পারে আমাদের গৌরবগাঁথা। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস জানতে পারলে আমাদের শিশুরা গর্ব অনুভব করবে। দেশ ও জনগণের প্রতি তাদের যে দায়িত্ববোধ তা সঠিকভাবে অনুধাবন করতে শিখবে। আমি ‘বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মেলা’র উপদেষ্টা, পৃষ্ঠপোষক ও কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাই; যাঁরা দীর্ঘ দুই দশকেরও অধিককাল অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই সংগঠনের কার্যক্রম দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আমি আশা করি এই সংগঠনের প্রতিটি কর্মীসহ দেশের তরুণ প্রজš§ দিনবদলের সংগ্রামে সামিল হয়ে এদেশকে সুখী-সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। পরিশেষে, আমি বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা আয়োজিত ‘জাতীয় শিশু দিবস ২০১২’ এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছি। খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা আয়োজিত বঙ্গবন্ধুর জš§দিনে ‘জাতীয় শিশু দিবস ২০১২’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মহামান্য রাষ্ট্রপতির ভাষণ স্থান ঃ বঙ্গভবন তারিখ ঃ ০৩ চৈত্র ১৪১৮ ১৭ মার্চ ২০১২
Home | Contact us | Sitemap
© Copyright 2009, Bangabhaban - Bangladesh, all rights reserved.
Financed by Support to ICT Task Force (SICT) , Planing Division. Developed by : Ethics Advanced Technology Ltd. (EATL)