Top banner
Language : Bengali | English
Quick Links
 




Venue: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস
Date: 31-03-2012


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, সম্মানিত সমাবর্তন বক্তা বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার মহাপরিচালক মি: প্যাসকেল ল্যামি, মাননীয় মন্ত্রিবর্গ ও সংসদ সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রধানগণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্যবৃন্দ, একাডেমিক কাউন্সিলের সম্মানিত সদস্যমণ্ডলী ও সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, প্রিয় øাতক ও øাতকোত্তর ডিগ্রীপ্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ, গবেষকবৃন্দ, ভদ্র মহিলা ও ভদ্র মহোদয়গণ, আস্সালামু আলাইকুম। ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৬তম সমাবর্তনের এই স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক দিনে আমি আপনাদের সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার প্রতিষ্ঠাকাল অর্থাৎ ১৯২১ সাল থেকে এ অঞ্চলের অধিবাসীদের মধ্যে উচ্চশিক্ষার প্রসার, জ্ঞান ও মুক্তবুদ্ধি চর্চা, মেধা ও মননের লালন ও বিকাশে অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছে। আমাদের গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে এগিয়ে নেয়ার পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিকাশমান ধারার সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পেরেছে। বিপুল অবদানের মূল্যায়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেবল উচ্চ শিক্ষার সূতিকাগার নয়, বরং তা জাতির আশা-আকাক্সক্ষার কেন্দ্রস্থল। নিরন্তর জ্ঞান চর্চার পাশাপাশি এ বিদ্যাপীঠটি আমাদের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে অবদান রেখে আসছে। মাতৃভাষার অধিকার আদায়ে ১৯৫২ সালে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজপথে জীবন দিয়েছে। জাতিসংঘের উদ্যোগে দিবসটি আজ সারা বিশ্বে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে উদযাপিত হচ্ছে। আমাদের স্বাধিকার, স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান আমাদের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রিয় সুধী, আপনারা জানেন, ১৯৭১ সালে এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি। পেয়েছি নিজস্ব পতাকা, নিজস্ব মানচিত্র। জাতি হিসেবে এটি আমাদের শ্রেষ্ঠ অর্জন। তবে এ অর্জন এক দিনে অর্জিত হয় নি। এজন্য আমাদের বছরের পর বছর সংগ্রাম করতে হয়েছে। আমি আজ পরম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যিনি দু’দশক ধরে বাঙালি জাতিকে জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ করে ১৯৭১ সালে বাঙালির মুক্তির সনদ মহান স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন। বাংলা, বাঙালি এবং বাংলাদেশের প্রতি এই প্রবাদতুল্য মহান জননেতার যে অবদান তা আমরা কখনো ভুলবো না। আমরা তাঁর অবদানকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। আমি বিনম্রচিত্তে শ্রদ্ধা জানাই মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোসৎসর্গকারী বীর শহীদদের। শ্রদ্ধা জানাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেইসব অকুতোভয় ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারী যাঁরা মাতৃভূমির জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। আমি তাঁদের সকলের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। সম্মানিত সুধী, আয়তনে বাংলাদেশ ছোট হলেও এ দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অব্যাহত অবদান রেখে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম শান্তিকামী অসাম্প্রদায়িক দেশ। বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সর্বোচ্চ সংখ্যক শান্তিরক্ষী প্রেরণ করে বিশ্বশান্তির ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় বিশ্ব জনমত সৃষ্টি, খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন, নারী ও শিশু স্বাস্থ্যের উন্নয়ন, নারী শিক্ষার বিকাশ, সামাজিক সমতা রক্ষা, অসাম্প্রদায়িক চেতনার লালনসহ বিশ্বমানবতার কল্যাণ ও মুক্তির জন্য বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে। সুধীমণ্ডলী, আমরা নতুন শতাব্দীতে পদার্পণ করেছি। প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্বে আমাদেরকে আজ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে হবে। তথ্য-প্রযুক্তি ও জীব-প্রযুুক্তির অগ্রযাত্রার সাথে আমাদের পুরোপুরিভাবে সম্পৃক্ত হতে হবে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে গবেষণা কার্যক্রম নিবিড় ও সম্প্রসারণ করতে হবে। গবেষণার ফলাফল দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার পাদপীঠ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম জাতি গভীর আগ্রহ সহকারে পর্যবেক্ষণ করে থাকে। তাই এখানে বিরবচ্ছিন্নভাবে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মত প্রকাশের স্বাধীনতা সার্বজনীন। তবে মতপ্রকাশ প্রক্রিয়া যাতে কোনভাবেই সহিংস আকার ধারণ না করে তা নিশ্চিত করতে গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও পরমত সহিষ্ণুতার পরিচয় দিতে হবে। আপনারা জানেন, আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে ছাত্রসমাজের রয়েছে গৌরবময় অবদান। তারা ’৫২ এর মহান ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, ’৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে বিপুল অবদান রেখেছেন। তাদের আন্দোলন ও আত্মত্যাগের পথ বেয়েই অর্জিত হয়েছে আজকের স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। ছাত্রসমাজ তাই জাতির চালিকাশক্তি, জাতির আশা-আকাক্সক্ষা এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার অবলম্বন। ছাত্রসমাজের যে গৌরবময় অতীত তা আজ আর সেভাবে প্রতিফলিত হয় না। ব্যক্তিস্বার্থে বা ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থে ছাত্রসংগঠনগুলোর আন্ত:দলীয় কোন্দলে জড়িয়ে পড়া জাতি প্রত্যাশা করে না। আমি আশা করবো ছাত্রসমাজ তাদের অতীত গৌরবকে ধারণ করে জাতি গঠনমূলক কাজে অবদান রাখবে। প্রিয় গ্রাজুয়েটবৃন্দ, আমি তোমাদের অভিনন্দন জানাই। কামনা করি সর্বাঙ্গীণ সাফল্য। আমরা জানি, সমাবর্তন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হলেও, এর মধ্য দিয়ে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। এর মধ্য দিয়ে জ্ঞান ও প্রজ্ঞাদীপ্ত মানুষের সম্মিলন ঘটে এবং অনুপ্রাণিত করে আগামী দিনের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে সুদূর অঙ্গীকারে। আশা করি, আমাদের নবীন গ্রাজুয়েটবৃন্দ এ সত্য হৃদয়ে ধারণ করে এ সমাবর্তন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে জাতীয় জীবনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যথাযথ অবদান রাখবে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সম্মানিত মহাপরিচালক মি: প্যাসকেল ল্যামি-র সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব লজ’ ডিগ্রী প্রাপ্তিতে আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। এছাড়া আজ এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে যাঁরা পিএইচ-ডি, এম ফিল, স্নাতকোত্তর ও স্নাতক ডিগ্রী লাভ করলেন তাদের সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আমি আশা করি আমাদের দেশের গ্রাজুয়েটবৃন্দ সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে বাস্তব অবদান রাখবেন। পরিশেষে আমি সকলকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ আমাদের সহায় হোন। খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৬তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর জনাব মোঃ জিল্লুর রহমান এর ভাষণ স্থান ঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস তারিখ ঃ শনিবার, ১৭ চৈত্র ১৪১৮ ৩১ মার্চ ২০১২
Home | Contact us | Sitemap
© Copyright 2009, Bangabhaban - Bangladesh, all rights reserved.
Financed by Support to ICT Task Force (SICT) , Planing Division. Developed by : Ethics Advanced Technology Ltd. (EATL)