Top banner
Language : Bengali | English
Quick Links
 




স্থান: বঙ্গভবন
তারিখঃ ৩ শ্রাবণ ১৪১৯ ১৮ জুলাই ২০১২ সময়ঃ বেলা ১.০০ টা


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম গ্লোবাল অটিজম পাবলিক হেল্থ বাংলাদেশ-এর চেয়ারপার্সন স্নেহাষ্পদ সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, কো-চেয়ারপার্সন প্রফেসর ডা: প্রাণ গোপাল দত্ত, গ্লোবাল অটিজম পাবলিক হেল্থ বাংলাদেশ টাস্ক ফোর্সের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ ও উপস্থিত সুধীমণ্ডলী আস্সালামু আলাইকুম। বঙ্গভবনে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাই। আপনারা আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন। অটিজম সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এ সামাজিক সমস্যা সমাধানে আপনারা কাজ করে যাচ্ছেন। এ উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা মানবিক এবং প্রশংসনীয়। এ জন্য আমি আপনাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমরা জানি, অটিজম শিশুদের একটি মানসিক বিকাশ ও আচরণগত সমস্যা। সেগুলো হলো ঃ ক্স শিশুর কথা বলতে দেরি হওয়া; ক্স চোখের দিকে তাকিয়ে যোগাযোগ স্থাপনে অপারগতা; ক্স না হাসা; ক্স সমবয়সীদের সাথে খেলাধুলা করতে অনাগ্রহী হওয়া; ক্স অনেকের মধ্যেও একা থাকা; ক্স কানে শুনতে পেলেও সবসময় ডাকে সাড়া না দেয়া; ক্স ক্ষুধা-তৃষ্ণার কথা না বলা ইত্যাদি। বিশেষজ্ঞদের মতে সাধারণত অটিজম সনাক্ত করা হয় শিশুর বয়স তিন বছর হওয়ার আগে। বর্তমানে সারা বিশ্বে অটিজম নিয়ে অনেক গবেষণা হচ্ছে। এ সমস্যার প্রকৃত কারণ এখনো চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করতে পারেননি। তবে কেউ কেউ ধারণা করেন জেনেটিক বা বংশগত কারণ, মাতৃগর্ভে শিশুর রুবেলা বা অন্য কোনো ইনফেকশন অথবা মস্তিষ্কের প্রদাহজনিত রোগের কারণে এ সমস্যাটি হয়ে থাকে। মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষার মাধ্যমে একজন মনোবিজ্ঞানী শনাক্ত করতে পারেন-শিশুটির অটিষ্টিক হয়েছে কিনা। কাউন্সেলিং, স্পিচ থেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ শিক্ষা এবং বিশেষায়িত শিক্ষার মাধ্যমে এ ধরনের সমস্যার সমাধান সম্ভব। সুধীমণ্ডলী, অটিজম চিকিৎসায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল দীর্ঘদিন যাবৎ কাজ করে যাচ্ছেন। গত ১লা এপ্রিল ২০১২ তারিখে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ সদর দফতরে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি অংশগ্রহণ করে মূল্যবান অবদান রাখেন। জাতিসংঘের মহাসচিব মি. বান কি মুনসহ অনেক অটিজম বিশেষজ্ঞ এতে যোগদান করেন। তার অনুপ্রেরণায় অটিজম শনাক্তকরণ ও এ সমস্যা সমাধানে অনেকেই এগিয়ে এসেছেন। আপনারা জানেন, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নেতৃত্বে ২০১১ সালের ২৫ জুলাই বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অটিজম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল এলায়েন্সের সভাপতি শ্রীমতি সোনিয়া গান্ধী ছাড়াও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শ্রীলংকার ফার্স্ট লেডী মিসেস রানথা রাজাপাকশে, মালদ্বীপের ফার্স্ট লেডী মিসেস ইলহাম হোসেইন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সম্মেলনে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও ভূটানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী; জর্ডান, আরব আমিরাত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, নেপাল, মায়ানমার, বাহামা, ব্র“নাই, ভারত ও পাকিস্তান থেকে অটিজম বিশেষজ্ঞগণ এবং অটিজম শিশু ও তাদের বাবা-মা অংশগ্রহণ করেন। ‘অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার’ বিষয়ক ‘ঢাকা ঘোষণা’র মধ্য দিয়ে অটিজম ও শিশুর অন্যান্য বিকাশজনিত সমস্যা সমাধানে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এ ধরণের একটি সামাজিক সমস্যা বিশেষ গুরুত্ব সহকারে জনসমক্ষে তুলে ধরার জন্য আমি সায়মা ওয়াজেদকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এ সমস্যাটি নির্ণয় এবং সমাধানে কী কী করণীয় সে সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ সকলের কাছে পৌঁছে দেয়ার যে মানবিক উদ্যোগ তিনি গ্রহণ করেছেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। মানবতার প্রতি এ দরদ ও ভালোবাসা তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করেছেন। আপনারা হয়ত জানেন, স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত সম্প্রতি প্রকাশিত ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র প্রারম্ভেই এই মহান নেতার ছোট কয়টি উক্তি সংকলিত আছে। তিনি ইংরেজীতে কথাগুলো লিখেছিলেন। যার মর্মার্থ হচ্ছে-‘‘একজন মানুষ হিসাবে সমগ্র মানবজাতি নিয়েই আমি ভাবি। একজন বাঙালি হিসাবে যা কিছু বাঙালিদের সঙ্গে সম্পর্কিত তাই আমাকে গভীরভাবে ভাবায়। এই নিরন্তর সম্পৃক্তির উৎস ভালোবাসা আমার রাজনীতি এবং অস্তিত্বকে অর্থবহ করে তোলে’’। বঙ্গবন্ধুর উত্তরাধিকারিণী হিসেবে সায়মা ওয়াজেদ পুুতুলও হৃদয়ে তাঁর মাতামহের চিন্তা ও আদর্শ ধারণ করেছেন বিধায়, মানবতার কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। শারিরীক ও মানসিক দিক দিয়ে সমস্যাগ্রস্ত শিশুদের কল্যাণে তিনি নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তাই আমি তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই এবং তার সার্বিক সাফল্য কামনা করি। ছোটবেলায় আমরা পড়েছি ‘কি যাতনা বিষে বুঝিবে সে কিসে কভু আশীবিষে দংশেনি যারে’। সুতরাং অটিজম শিশুর বেদনা সে ও তার পিতামাতা ছাড়া অন্য কারো পক্ষে অনুভব করা সম্ভব নয়। সন্তানের এধরণের সমস্যা নিয়ে পিতা-মাতা দিনরাত চিন্তিত থাকেন। ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সমাজের সকল অটিজম শিশুর জীবন যাত্রায় যেকোন প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠে বিকশিত জীবনের দিকে এগিয়ে নেয়ার যে প্রত্যয় ও প্রচেষ্টা তা অত্যন্ত প্রশংসিত উদ্যোগ। তাই এই কর্মসূচির সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। এ প্রচেষ্টায় আমি সার্বিক সমর্থন ও সহযোগিতার আশ্বাস দিচ্ছি। একইসাথে আমি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এ প্রক্রিয়া সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে সর্বাত্মক সাহায্য ও সহযোগিতার অনুরোধ জানাই। একটি অটিজম শিশুকে সক্ষম ও বিকশিত জীবনের অধিকারী করে তুলতে পারার মধ্যে অনাবিল আনন্দ ও তৃপ্তি পাওয়া যাবে। যারা এদের সাহায্য করবেন মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আ’লামীনও তাদের উপর খুশী হবেন। গ্লোবাল অটিজম পাবলিক হেল্থ বাংলাদেশ এর চেয়ারপার্সন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, কো-চেয়ারপার্সন ডা: প্রাণ গোপাল দত্তসহ জি এ পি এইচ বাংলাদেশ টাস্ক ফোর্সের সদস্যমণ্ডলীসহ যাঁরা মানবিক কল্যাণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন আমি তাঁদের আবারও আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। সকলের আন্তরিক সহযোগিতা, এ সমস্যা সমাধানে অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে বলে আমার বিশ্বাস। মানবতার কল্যাণে আপনাদের এ প্রয়াস সফল হউক। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আপনাদের সবাইকে আবারও আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়ে শেষ করছি। খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। গ্লোবাল অটিজম পাবলিক হেল্থ বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের সভায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব মোঃ জিল্লুর রহমান-এর ভাষণ স্থানঃ বঙ্গভবন তারিখ ঃ বুধবার, ৩ শ্রাবণ ১৪১৯ ১৮ জুলাই ২০১২ সময় ঃ বেলা ১.০০ টা

Home | Contact us | Sitemap
© Copyright 2009, Bangabhaban - Bangladesh, all rights reserved.
Financed by Support to ICT Task Force (SICT) , Planing Division. Developed by : Ethics Advanced Technology Ltd. (EATL)