Top banner
Language : Bengali | English
Quick Links
 




স্থান: ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন
তারিখঃ ১৩ ভাদ্র ১৪১৯ ২৮ আগস্ট ২০১২


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম মাননীয় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট মোঃ শাহজাহান মিয়া, এমপি; ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরস এর সম্মানিত গভর্নর জনাব বজলুল হক হারুন, এমপি, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সম্মানিত মহাপরিচালক, বিজয়ী প্রতিযোগীবৃন্দ এবং উপস্থিত সুধীমন্ডলী আসসালামু আলাইকুম। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩৭তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস ২০১২ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ে হিফ্য ও রচনা প্রতিযেগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে আমি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে অশেষ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। লাখো কোটি দরুদ ও সালাম পেশ করছি মানব জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ আল্লাহর হাবিব প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শানে। বক্তব্যের শুরুতে আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যিনি বাঙালি জাতিকে একটি স্বতন্ত্র জাতি-রাষ্ট্র উপহার দিয়েছেন। বিনম্র চিত্তে স্মরণ করছি মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে শাহাদাৎ বরণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। পরম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি বঙ্গবন্ধু পরিবারের শহীদ সদস্যসহ স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শহীদদের। আমি তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। সুধীমণ্ডলী, বাঙালি জাতির ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান অপরিসীম। মহান ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাঙালির মুক্তির সংগ্রাম পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। জেল-জুলুম ও স্বৈরশাসকদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তিনি বাংলার আপামর জনগণের জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তাঁর দেশপ্রেম ছিল অতুলনীয়। ১৯৭২ সালে পাকিস্তানের কারাগার থেকে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন ১০ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণে তিনি বলেন, ‘‘আমার ফাঁসির হুকুম হয়েছিল। আমার সেলের পাশে আমার জন্য কবরও খোঁড়া হয়েছিল। আমি মুসলমান। আমি জানি, মুসলমান মাত্র একবারই মরে। তাই আমি ঠিক করেছিলাম, আমি তাদের নিকট নতি স্বীকার করব না। ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার সময় আমি বলব, আমি বাঙালি, বাংলা আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা।’’ বঙ্গবন্ধু তৎকালীন সামরিক শাসকদের বলেছিলেন, ‘‘আমার যদি ফাঁসি হয় তাহলে আমার মৃতদেহ যেন বাংলার জনগণের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়’’। সম্মানিত সুধী, বাঙালি জাতির এই অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন সকল লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে। স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী হয়েও তিনি অনাড়ম্বর জীবন যাপন করতেন। তাঁর দু’চোখে ছিল সুখী-সমৃদ্ধ বাংলা, বাঙালি আর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ। তাইতো তিনি বলেছিলেন,‘‘ আমাদের অস্ত্রের সংগ্রাম শেষ হয়েছে। এবার স্বাধীনতার সংগ্রামকে দেশ গড়ার সংগ্রামে রূপান্তরিত করতে হবে। মুক্তির সংগ্রামের চেয়েও দেশ গড়ার সংগ্রাম কঠিন। তাই দেশ গড়ার কাজে আমাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করতে হবে’’। জাতির পিতার ‘সোনার বাংলা’ গড়ার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। স্বাধীনতা বিরোধী চক্র তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নির্মমভাবে হত্যা করে। আমাদের জাতির ইতিহাসে এ এক কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে। বাঙালি জাতি চিরকাল বহন করবে সেই শোক। পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর শিক্ষা বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ইতোমধ্যে বিভিন্ন গবেষণামূলক মূল্যবান গ্রন্থ জাতিকে উপহার দিয়েছে। জাতির জনকের জীবন ও কর্ম নিয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করায় আমি খুশি হয়েছি। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা সৎ কাজে প্রতিযোগিতা কর’। আমি আশা করি এ ধরণের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নতুন প্রজš§ বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারবে। আমি আশা করি দেশ ও জাতির জ্ঞানের স্পৃহা পূরণে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আরো নতুন নতুন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবে। সুধীমন্ডলী, আপনারা জানেন, বাংলাদেশ একটি উদার গণতান্ত্রিক দেশ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি তার অলংকার। বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল গণপরিষদে ভাষণে বলেন, আমাদের দেশ হবে ধর্মনিরপেক্ষ। ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। তিনি আরো বলেন, ‘‘রাজনৈতিক কারণে ধর্মকে ব্যবহার করা যাবে না। যদি কেউ ব্যবহার করে, তা হলে বাংলার মানুষ তাকে প্রত্যাঘাত করবে, এ বিশ্বাস আমি করি’’। আমরা আজ লক্ষ্য করছি ইসলামের নাম ভাঙিয়ে কোন কোন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী আমাদের সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের ভিত বিনষ্ট করার তৎপরতায় লিপ্ত। এদের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। ইসলামে সন্ত্রাস বা জঙ্গীবাদের কোন স্থান নেই। তাই কেউ যাতে ইসলামের নাম ব্যবহার করে এসব হীনকর্মে মদদ যোগাতে না পারে এজন্যে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ্ বলেন ‘লাকুম দীনুকুম ওলীয়াদীন’ অর্থাৎ ‘তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্ম; আমার জন্য আমার ধর্ম’। পরমত সহিষ্ণুতা বাঙালির একটি অমূল্য সম্পদ। ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ও মর্মবাণীও তা-ই। আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই, বাঙালির হাজার বছরের যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির ঐতিহ্য তা আমাদের সম্মিলিতভাবে ধরে রাখতে হবে। গড়ে তুলতে হবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। যারা এই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন আমি তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত কামনা করি। আমি আশা করি তারা তাদের এই মেধা ও মনন-কে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজে লাগাবে। পরিশেষে আমি সকলকে আবারও ধন্যবাদ জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হিফ্য ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব মোঃ জিল্লুর রহমান-এর ভাষণ।

Home | Contact us | Sitemap
© Copyright 2009, Bangabhaban - Bangladesh, all rights reserved.
Financed by Support to ICT Task Force (SICT) , Planing Division. Developed by : Ethics Advanced Technology Ltd. (EATL)