Top banner
Language : Bengali | English
Quick Links
 




স্থানঃ রূপসী বাংলা হোটেল
তারিখঃ বুধবার, ২৪ শ্রাবণ ১৪১৯ ০৮ আগস্ট ২০১২


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম অনুষ্ঠানের সম্মানিত সভাপতি মাননীয় সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, এমপি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, বঙ্গমাতা পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রফেসর ড. আবুল বারকাত, বঙ্গমাতা পরিষদের কার্যনির্বাহী সভাপতি জনাব মুজাফ্ফর হোসেন পল্টু, পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এম আনিছুর রহমান এবং উপস্থিত সুধীমণ্ডলী আসসালামু আলাইকুম। বঙ্গমাতা পরিষদ আয়োজিত বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে আসতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমি বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। আগস্ট বাঙালি জাতির শোকের মাস। আমি আজ পরম শ্রদ্ধায় বিনম্্রচিত্তে স্মরণ করছি স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করছি মহান স্বাধীনতাযুদ্ধসহ ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের। আমি স্মরণ করছি জেলখানায় শহীদ জাতীয় চার নেতা, ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুর সাথে তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যদের, ২১ আগস্ট বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় আমার সহধর্মিণী শহীদ আইভি রহমানসহ অন্যান্য শহীদ নেতাকর্মীদের। আমি তাঁদের সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আপনারা অনেকেই হয়ত জানেন, ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কেবল বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বিপদে-আপদে, সংকট-প্রতিকূলে তাঁর পরম আশ্রয়। তিনি তাঁকে পরামর্শ দিতেন, যুগাতেন সাহস। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগকে পরোক্ষভাবে নেতৃত্ব এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করতেন। দলের প্রয়োজনে তিনি নিজ হাতের সোনার বালা বিক্রী করে সংগঠন পরিচালনার অর্থের যোগান দিয়েছেন। মূলত: বঙ্গবন্ধু যে জাতির পিতা হয়েছেন এর পেছনে রয়েছে মহীয়সী নারী বঙ্গমাতার অপরিসীম অবদান। সম্প্রতি প্রকাশিত বঙ্গবন্ধুর লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ থেকে জানা যায় এই আত্মজীবনী লেখার পেছনেও ফজিলাতুন্নেছার ভূমিকা রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ভাষায়, আমার সহধর্মিনী একদিন জেলগেটে বসে বলল, ‘‘বসেই তো আছ, লেখ তোমার জীবনের কাহিনী’’। বঙ্গবন্ধু আরও বলেন, ‘‘আমার স্ত্রী যার ডাকনাম রেণু আমাকে কয়েকটা খাতাও কিনে জেলগেটে জমা দিয়ে গিয়েছিলো। জেল কর্তৃপক্ষ যথারীতি পরীক্ষা করে খাতা কয়টা আমাকে দিয়েছেন। রেণু আরও একদিন গেলগেটে বসে আমাকে অনুরোধ করেছিল। তাই আজ লিখতে শুরু করলাম।’’ আমি পনেরো কোটি বাঙালির পক্ষ হতে রেণু ভাবীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। কেননা তিনি না বললে বঙ্গবন্ধু হয়ত এই আত্মজীবনী লিখতেন না। আর সেক্ষেত্রে বাঙালি জাতির স্বাধীনতা ও মুক্তি আন্দোলনের ধারাবাহিক ইতিকথা আমাদের অজানাই রয়ে যেত। বিভিন্ন সময়ে বঙ্গবন্ধুর ১৪ বছর কারাদন্ডকালীন দলের কঠিন সংকটে হিমালয়ের মতো স্থির থেকে শান্ত মাথায় সমস্যার সমাধান প্রদান করতেন বঙ্গমাতা। সংকটে বিচক্ষণ পরামর্শদাতা এবং সুখে-দুঃখে বঙ্গবন্ধু ও তার প্রাণপ্রিয় দল আওয়ামী লীগের সারথী হিসেবে তাঁর অবদান চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন বঙ্গমাতা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে পুত্রকন্যা, শ্বশুর-শাশুড়ি নিয়ে নিজে গৃহবন্দি অবস্থায় সংসার ও দলের হাল ধরেছেন। দুর্বিসহ কষ্ট ও যন্ত্রনা সহ্য করে অসীম ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছেন। আমরা দেখি দেশের প্রতিষ্ঠাতা বা রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী হয়েও তিনি অতি সাধারণভাবে চলাফেরা করতেন। আড়ম্বড়তা তাঁর মধ্যে কখনো দেখিনি। তাঁর মতো সহজ-সরল, নির্লোভ, নিরহংকার, øেহপ্রবণ, পরোপকারী মানুষ আমি খুব কমই দেখেছি। মূলত তিনি ছিলেন চিরায়ত বাংলার উজ্জ্বল প্রতিকৃতি। তিনি তাঁর কর্মের গুণেই পরিণত হয়েছেন বঙ্গমাতা হিসেবে। সুধীমন্ডলী, আমার পরম সৌভাগ্য হয়েছিল বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছাকে কাছ থেকে দেখার। বঙ্গবন্ধুর সহচর এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে রাজনৈতিক বিষয়াদি আলোচনার জন্য আমি ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাসায় বহুবার গিয়েছি। বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যের পাশাপাশি আমি শ্রদ্ধেয় ভাবীর অপার øেহ পেয়েছি। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে সঠিক দিক নির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদানের যোগ্যতা ছিল বলেই, আমরা সমস্যা ও সংকটে তার কাছে ছুটে যেতাম। তিনি আমাদের সুষ্ঠু সমাধান দিয়ে দিতেন, পরামর্শ দিতেন। মানুষের প্রতি তাঁর যে দরদ ও মমতা তা ভুলবার নয়। সে দিনের সে সব স্মৃতি মনে হলে আমি আজও আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়ি। তাই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে বঙ্গমাতার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জাতি গঠনে বঙ্গমাতার অবদান নতুন প্রজš§কে জানানো আমাদের দায়িত্ব। তাঁর জীবন ও কর্ম থেকে নতুন প্রজন্মের প্রতিটি মেয়ে শিক্ষা নিয়ে উন্নত জীবন গড়তে পারে। বঙ্গমাতা পরিষদ তাঁর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করার মহান কর্মে নিয়োজিত থাকায় আমি তাঁদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তাঁদের এ মহতী উদ্যোগ আমাদের নতুন প্রজন্মের প্রতিটি মেয়েকে একজন আদর্শ গৃহিনী শুধু নয় একজন দায়িত্বশীল নাগরিক এমনকি একজন সমাজসেবী বা জাতীয় নেত্রীতে উন্নীত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। বিনয়, ধৈর্য্য, কষ্ট সহিষ্ণুতা, অধ্যবসায়, ব্যবস্থাপনা, অনুকুল বা প্রতিকূল পরিবেশে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ অথবা সঠিক পরামর্শ প্রদানের যে গুণাবলী তিনি দেখিয়ে গেছেন তা থেকে শিক্ষা গ্রহণের জন্য আমি সমাজের সকলস্তরের মানুষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই। জাতির দুর্ভাগ্য ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সাথে বঙ্গমাতা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের স্বাধীনতা বিরোধী ঘাতক চক্রের হাতে নির্মমভাবে শহীদ হতে হয়। বাঙালি জাতির ইতিহাসে এ এক শোকাবহ ঘটনা। আমি আজ এই মহীয়সী নারী ও তাঁর পরিবারের সকল শহীদ সদস্যের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। পরিশেষে সবাইকে ধন্যবাদ এবং বঙ্গমাতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি। খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। বঙ্গমাতা পরিষদ আয়োজিত বঙ্গমাতার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব মোঃ জিল্লুর রহমানের ভাষণ। স্থান ঃ রূপসী বাংলা হোটেল তারিখ ঃ বুধবার, ২৪ শ্রাবণ ১৪১৯ ০৮ আগস্ট ২০১২

Home | Contact us | Sitemap
© Copyright 2009, Bangabhaban - Bangladesh, all rights reserved.
Financed by Support to ICT Task Force (SICT) , Planing Division. Developed by : Ethics Advanced Technology Ltd. (EATL)