Top banner
Language : Bengali | English
Quick Links
 




স্থানঃ ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন
তারিখ : বৃহস্পতিবার, ১৫ ভাদ্র ১৪১৯ ৩০ আগস্ট ২০১২


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম মাননীয় সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, এমপি; বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য এ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন; মাননীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান, এমপি; অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল মান্নান চৌধুরী; সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক এ্যাডভোকেট শ.ম. রেজাউল করিম; পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম মৃধা এবং উপস্থিত সুধীমণ্ডলী আসসালামু আলাইকুম। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পরিষদ আয়োজিত বঙ্গমাতার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠানে আসতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমি বঙ্গমাতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। আমি পরম শ্রদ্ধায় বিনম্্রচিত্তে স্মরণ করছি স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করছি মহান স্বাধীনতাযুদ্ধসহ ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের। আমি তাঁদের সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। সম্মানিত সুধী, আপনারা জানেন, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছিলেন আপন আলোয় ভাস্বর। শৈশবে তিনি পিতৃ-মাতৃহীন হয়ে পড়লেও পিতৃব্যের অপার স্নেহে শেখ পরিবারের ঐতিহ্য অনুসারে পারিবারিক পরিমণ্ডলে তিনি বেড়ে ওঠেন। দাদা শেখ কাসেমের ঐকান্তিক আগ্রহে পরিবারের সম্মতিতে শেখ মুজিবের সাথে তার বিয়ে হয়। জীবন ও জগৎ সম্পর্কে তেমন ধারণা না থাকলেও আপন মহিমায় ধীরে ধীরে তিনি মহীয়সী নারীতে পরিণত হন। ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কেবল বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বিপদে-আপদে, সংকট-প্রতিকূলে তাঁর পরম আশ্রয়। তিনি তাঁকে পরামর্শ দিতেন, যুগাতেন সাহস। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৬-দফা কর্মসূচি দিলে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুর উপর নিপীড়ন ও নির্যাতন বাড়িয়ে দেয়। তাঁকে গ্রেফতারের জন্যে হন্যে হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে বঙ্গমাতা অসীম ধৈর্য্য ও সাহসের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেন। এমনকি বন্দি অবস্থায় প্যারোলে মুক্তি নিয়ে আইয়ুব খানের গোল টেবিল বৈঠকে যোগদানে নিষেধ করেন। মূলত: বঙ্গবন্ধু যে জাতির পিতা হয়েছেন এর পেছনে রয়েছে মহীয়সী নারী বঙ্গমাতার অপরিসীম অবদান। বিভিন্ন সময়ে বঙ্গবন্ধুর ১৪ বছর কারাদন্ডকালীন দলের কঠিন সংকটে হিমালয়ের মতো স্থির থেকে শান্ত মাথায় সমস্যার সমাধান প্রদান করতেন বঙ্গমাতা। সংকটে বিচক্ষণ পরামর্শদাতা এবং সুখে-দুঃখে বঙ্গবন্ধু ও তার প্রাণপ্রিয় দল আওয়ামী লীগের সারথী হিসেবে তাঁর অবদান চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন বঙ্গমাতা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে পুত্র-কন্যা, শ্বশুর-শাশুড়ি নিয়ে নিজে গৃহবন্দি অবস্থায় সংসার ও দলের হাল ধরেছেন। দুর্বিসহ কষ্ট ও যন্ত্রনা সহ্য করে অসীম ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছেন। ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সাধারণ বাঙালি রমনীদের মতো আটপৌড়ে জীবন যাপন করতেন। আমরা দেখি দেশের রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী হয়েও তিনি অতি সাধারণভাবে চলাফেরা করতেন। আড়ম্বরতা তাঁর মধ্যে কখনো দেখিনি। তাঁর মতো সহজ-সরল, নির্লোভ, নিরহংকার, øেহপ্রবণ, পরোপকারী মানুষ আমি খুব কমই দেখেছি। তিনি তাঁর কর্মের গুণেই পরিণত হয়েছেন বঙ্গমাতা হিসেবে। সুধীমন্ডলী, আমার পরম সৌভাগ্য হয়েছিল বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছাকে কাছ থেকে দেখার। বঙ্গবন্ধুর সহচর এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে রাজনৈতিক বিষয়াদি আলোচনার জন্য আমি ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাসায় বহুবার গিয়েছি। বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যের পাশাপাশি আমি শ্রদ্ধেয় ভাবীর অপার øেহ পেয়েছি। মানুষের প্রতি তাঁর যে দরদ ও মমতা তা ভুলবার নয়। সে দিনের সেসব স্মৃতি মনে হলে আমি আজও আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়ি। জাতি গঠনে বঙ্গমাতার অবদান নতুন প্রজš§কে জানানো আমাদের দায়িত্ব। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পরিষদ বঙ্গমাতার জীবন ও কর্ম দেশবাসীকে জানানোর মহৎ কর্মে নিয়োজিত থাকায় আমি তাঁদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। বিনয়, ধৈর্য্য, কষ্ট সহিষ্ণুতা, অধ্যবসায়, ব্যবস্থাপনা, অনুকুল বা প্রতিকূল পরিবেশে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা সঠিক পরামর্শ প্রদানের যে গুণাবলী বঙ্গমাতা দেখিয়ে গেছেন তা থেকে শিক্ষা গ্রহণের জন্য আমি সমাজের সকলস্তরের মানুষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই। সাহসিকতা ও ধৈর্য্যরে সাথে কিভাবে অসংখ্য সমস্যা মোকাবেলা করে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছা যায় সে বিষয়ে বঙ্গমাতার ‘জীবন ও কর্ম’ থেকে শিক্ষা গ্রহণের জন্য আমি নতুন প্রজন্মের সকল মেয়েদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। জাতির দুর্ভাগ্য ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সাথে বঙ্গমাতা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের স্বাধীনতা বিরোধী ঘাতক চক্রের হাতে নির্মমভাবে শহীদ হতে হয়। বাঙালি জাতির ইতিহাসে এ এক শোকাবহ ঘটনা। আমি আজ এই মহীয়সী নারী ও তাঁর পরিবারের সকল শহীদ সদস্যের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। পরিশেষে সবাইকে ধন্যবাদ এবং বঙ্গমাতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি। খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পরিষদ আয়োজিত বঙ্গমাতার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব মোঃ জিল্লুর রহমানের ভাষণ। স্থান ঃ ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন তারিখ ঃ বৃহস্পতিবার, ১৫ ভাদ্র ১৪১৯ ৩০ আগস্ট ২০১২
Home | Contact us | Sitemap
© Copyright 2009, Bangabhaban - Bangladesh, all rights reserved.
Financed by Support to ICT Task Force (SICT) , Planing Division. Developed by : Ethics Advanced Technology Ltd. (EATL)