Top banner
Language : Bengali | English
Quick Links
 




Venue: রূপসী বাংলা হোটেল
Date: 05-06-2011


বিশ্মিল্লাহির রাহমানির রাহিম


এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শান্তি সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনের সম্মানিত সভাপতি,
বিভিন্ন দেশ থেকে আগত সম্মানিত অতিথিবর্গ,
অধিবেশনে যোগদানকারী প্রতিনিধিগণ এবং
উপস্থিত সুধীমন্ডলী

আসসালামু আলাইকুম।

বাংলাদেশ শান্তি পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শান্তি সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে আপনাদের মাঝে আসতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমি সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। এই সম্মেলন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী জাতিগত নিপীড়ন ও সস্ত্রাসের বিরুদ্ধে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আমার বিশ্বাস। আমি আজ পরম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যিনি বাঙালি জাতিকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র উপহার দিয়েছেন এবং আজীবন শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে গেছেন। ১৯৭৪ সালে সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলায় প্রদত্ত ভাষণে বঙ্গবন্ধু দৃপ্তকণ্ঠে বলেন, ''মানবজাতির অস@িত্ব রক্ষার জন্য শান্তি অত্যন্ত জরুরী এবং তাহা সমগ্র বিশ্বের নর-নারীর গভীর আকা ক্ষারই প্রতিফলন ঘটাইবে এবং ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত শান্তিই দীর্ঘস্থায়ী হইতে পারে।'' আমি মহান স্বাধীনতাযুদ্ধসহ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় যাঁরা জীবন উৎসর্গ করেছেন তাঁদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।

সম্মানিত সুধীমণ্ডলী,
আমি জেনে অত্যন্ত খুশি হয়েছি যে, ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তি সংগ্রামে বিশ্ব শান্তি পরিষদ গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ পরিষদ বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের বার্তা পৌঁছে দিয়ে বিশ্ব জনমত সৃষ্টিতে অবদান রাখে। যার ফলশ্রুতিতে সারাবিশ্বের শান্তিকামী জনতা বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের প্রতি তাদের অকুণ্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করে। স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার ক্ষেত্রেও এ সংগঠনটি উলে-খযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এ সংগঠনের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সম্মানিত প্রতিনিধিগণ,
বর্তমান বিশ্বপ্রেক্ষাপটে শান্তি প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অত্যন্ত জরুরী। একথা অনস্বীকার্য যে টেকসই শান্তি যে কোন দেশের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পুর্বশর্ত। বর্তমান সরকার সেই শান্তির লক্ষ্যে দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। দেশ থেকে জঙ্গিবাদ এবং সব ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সরকার অত্যন্ত সোচ্চার। জাতিসংঘ, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন ও সার্কসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশ বিশ্ব শান্তির পক্ষে কার্যকর ও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। আমি আনন্দের সাথে বলতে চাই যে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের অধীনে বাংলাদেশ ১৯৮৮ সাল থেকে আজ পর্যন্ত বিশ্বের ৩০টি দেশে ৪৫টি মিশনে প্রায় এক লক্ষ সৈন্য প্রেরণ করেছে। যারা নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় অব্যাহত অবদান রেখে যাচ্ছে। ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি করে জাতিগত সংঘাত নিষঙ্ত্তি ও নিরসন করার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক অবদান রেখেছে। কেবল শান্তিপুর্ণ সহাবস্থানই নয়, সামঙ্্রদায়িক সমঙ্্রীতি ও মানব মর্যাদায় বাংলাদেশ বিশ্বে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এ প্রসঙ্গে আমি ডড়ৎষফ ঐঁহমবৎ চৎড়লবপঃ এর প্রবক্তা গৎ. জড়নবৎঃ ড. ঋঁষষবৎ এর উক্তি উলে-খ করতে চাই। তিনি বলেন, \'ওভ ৎবধংড়হ রং হববফবফ ভড়ৎ নবষরবারহম ঃযধঃ ইধহমষধফবংয পধহ ংবৎাব ধং ধ ফরমহরঃধৎরধহ সড়ফবষ ভড়ৎ ঃযব মষড়নধষ পড়সসঁহরঃু\'.
সুধীবৃন্দ,
আপনারা জানেন, শান্তির অন্বেষা মানবজাতির চিরন্তন বৈশিষ্ট্য। পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতাসহ যে কোন ধরনের অস্ত্র প্রতিযোগিতা, সমরবাদ ইত্যাদির পরিবর্তে সমাজের সার্বিক গণতন্ত্রায়নের মধ্য দিয়ে শান্তি আন্দোলনের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখা আজ সময়ের দাবী। বিশ্বশান্তি আন্দোলন আমাদের এটাই শিক্ষা দেয় যে, আলোচনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপুর্ণ সমাধানের কোন বিকল্প নেই। পৃথিবীকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করতে না পারলে শান্তি প্রতিষ্ঠার আন্দোলন ও সংগ্রাম অর্থহীন হয়ে পড়বে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের স্বল্পোন্নত দেশগুলো আজো ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়ছে, লড়ছে রোগশোক ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে। তাই বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধ ও হানাহানি বন্ধের পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জন অপরিহার্য। শান্তি, সাম্য ও সমৃদ্ধ বিশ্বগঠনে আমি পৃথিবীর ধনী ও উন্নত দেশগুলোকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।

 

Home | Contact us | Sitemap
© Copyright 2009, Bangabhaban - Bangladesh, all rights reserved.
Financed by Support to ICT Task Force (SICT) , Planing Division. Developed by : Ethics Advanced Technology Ltd. (EATL)